Wednesday , 14 January 2026

সুবর্ণচরে ছাত্রী নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে নুরানী মাদ্রাসায় অগ্নিসংযোগ, শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষার অনিশ্চিতয়তা

॥ মো. রেদওয়ান হোসেন, সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি ॥

নো য়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চর জব্বর ইউনিয়নের উত্তর চর হাসান গ্রামে অবস্থিত সৈয়দ মুন্সী দারুল উলুম নুরানী মাদ্রাসায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক সাবেক ছাত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা মাদ্রাসাটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

 

মাদ্রাসায় তখন কোনো শিক্ষার্থী না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ছাত্রীকে নিয়ে পালানোর ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সুধারাম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে ভুক্তভোগী ছাত্রী তার পরিবারের হেফাজতে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হাসান (৩৫) ফিরোজপুর জেলার বাসিন্দা। তিনি ওই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ১২ বছর বয়সী এক সাবেক ছাত্রীকে নিয়ে গত ৭ জানুয়ারি পালিয়ে যান। ভুক্তভোগী ছাত্রী বর্তমানে সদর উপজেলার নুরু পাটোয়ারীহাট মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন।

ঘটনার জেরে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে দিলে প্রায় পাঁচ দিন প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ছিল। এরই মধ্যে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে কে বা কারা মাদ্রাসার বিভিন্ন কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মাদ্রাসার একাধিক কক্ষ ও শিক্ষা উপকরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। মাদ্রাসায় তখন কোনো শিক্ষার্থী না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ছাত্রীকে নিয়ে পালানোর ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সুধারাম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে ভুক্তভোগী ছাত্রী তার পরিবারের হেফাজতে রয়েছে।

এদিকে, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা জানান, একটি ব্যক্তির অপরাধের দায় কোনোভাবেই একটি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপানো উচিত নয়। বহু মানুষের শ্রম, অনুদান ও সহযোগিতায় গড়ে ওঠা একটি প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয় বলে তারা মন্তব্য করেন। সংক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

একই সঙ্গে অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। অগ্নিকাণ্ডের ফলে বর্তমানে মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী মনে করছেন, প্রতিহিংসা ও উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা সমাজের জন্য একটি ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। তারা সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

Check Also

উল্লাপাড়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কালোজিরা চাষ

॥  আরিফুল ইসলাম আরিফ, উল্লাপাড়া  ( সিরাজগঞ্জ)  প্রতিনিধি ॥ সি রাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় …