শুক্রবার , ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

উল্লাপাড়ায় নির্মাণাধীন মডেল মসজিদে মডেল দূর্ণীতির অভিযোগ ,উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন

॥ এ আর রাজু, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ॥

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নির্মাণাধীন উপজেলা মডেল মসজিদ এবং ইসলামিক শিক্ষা কেন্দ্র নির্মান কাজে নানা অনিয়ম, দূর্ণীতি ও নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, মুল ভবনের পিলারগুলো আঁকা-বাঁকা এবং ছাদ ঢালাইয়ের আগেই সকল পিলার হেলে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসক, সিরাজগঞ্জ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে মো: তোফাজ্জল হোসেন, উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার বিভাগকে প্রধান করে ৫ (পাঁচ) সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। আগামী ৭ (সাত) কর্ম দিবসের মধ্যে এই কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবেন বলে তিনি জানান।

 

 

অধিকাংশ পিলার নির্মান আঁকা-বাঁকা ও নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে উত্তোলন করে।উক্ত ত্রুটিপূর্ণ কাজ গোপন করতে দ্রুত বালুমাটি দিয়ে পিলারগুলো ভরাট করার চেষ্টা করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রতিটি উপজেলায় ১১ কোটি ৬৯ লাখ ৩৪ হাজার ৮ শত ৪২ টাকা ৮৮ পয়সা ব্যয়ে মডেল মসজিদ এবং ইসলামিক শিক্ষা কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। গত ২০১৯ সালের ১৩ জুনে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট এস এস কনস্ট্রাকশন প্রাইভেট লিঃ এর সাথে গণপূর্ত বিভাগের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ।

চুক্তির পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট এস এস কনস্ট্রাকশন প্রাইভেট লিঃ গত ৩ বছরে বেজ ঢালাই দিয়ে মাত্র অর্ধেক পিলার উত্তোলন করে। অধিকাংশ পিলার নির্মান আঁকা-বাঁকা ও নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে উত্তোলন করে।উক্ত ত্রুটিপূর্ণ কাজ গোপন করতে দ্রুত বালুমাটি দিয়ে পিলারগুলো ভরাট করার চেষ্টা করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে মসজিদের চার পাশে বেজ ঢালাই ও পিলার করার জন্য গর্ত করে। বৃষ্টি কারণে পিলারের পাশ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় আঁকা-বাঁকা ও হেলে পড়া পিলার বের হয়ে আসে। এ অবস্থা দেখে স্থানীয় জনগণ মডেল মসজিদে, মডেল দূর্নীতির কথা জেলা প্রশাসক মহোদয় কে মৌখিকভাবে জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় বেজ ঢালাই এর ত্রুটির কারণে বালুমাটির চাপ পেয়ে গাডার ঢালাইয়ের আগেই বৃষ্টির কারণে পিলারগুলো হেলে পড়ে। ক’দিন আগে বৃষ্টি হওয়ায় পিলারের পাশ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় পিলার এর আঁকা-বাঁকা ও হেলে পড়া অবস্থা বের হয়ে যায়। তখন বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের নজরে আসে।

বিষয়টি মোবাইল ফোনে ধারণ করে এলাকাবাসী সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ উজ্জল হোসেনকে বিষয়টি অবহিত করে। তারই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সিরাজগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন । এ সময় ওই প্রকল্পে দায়িত্ব প্রাপ্ত সিরাজগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ জাহেদুল হাসান সহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

Check Also

সিরাজগঞ্জের সলংগায় মাদ্রাসা পড়ুয়া ১০ বছরের ছাত্রী নিখোঁজ।

॥ এম আরিফুল ইসলাম, সলংগা (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ॥ সিরাজগঞ্জের সলংগা থানাধীন রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অলিদহ গ্রামের সানজিদা …