শুক্রবার , ১৯ এপ্রিল ২০২৪

জমি মাপার কথা বলে আমিন নিজেই দখল করলেন দিন মজুরের চিংড়ী ঘের

॥ বাগেরহাট প্রতিনিধি ॥

মোংলার হলদিবুনিয়া এলাকায় জমি মাপার কথা বলে কথিত আমিন নিজেই অসহায় দিন মজুর এক বৃদ্ধের ঘের ও ঘরবাড়ী দখল করার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার দুপুরে ওই কথিত আমিন মিজান সরদার ১৫/২০ জনের একদল সন্ত্রাসী নিয়ে প্রায় ৩১ বিঘার একটি চিংড়ী ঘের ও বসত বাড়ী জোর পুর্বক দখলে নেয়ার চেষ্টা করে। এসময় জমির মালিকরা প্রতিবাদ করলে তাদের মেরে আহত করে এবং নারীদের পরণের পোষাক টেনে হেচড়ে শ্লিতাহানী ঘটায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এব্যাপারে মোংলা থানার পৃথক দুইটি এজাহাজর দখিল করা হয়েছে।

 

এখানে বসবাসকারীরা অসহায় ও গরীব হওয়ায় দীর্ঘ দিন থেকে তাদের পাশের গ্রামের আলম শেখ নামের এক সন্ত্রাসী ও ভুমি দস্যু এ জমিটি জোর পুর্বক দখলে নেয়ার চেষ্টা করে আসছে। এনিয়ে তাদের উভয়ের মধ্যে বাগেরহাট আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে।

মোংলায় দেয়া এজাহার সুত্রে ও প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানায়, মোংলা উপজেলার হলদিবুনিয়া মৌজার এসএ ৭৪৬ নং-খতিয়ানের ৬০, ৬২, ৬৩, ৬৪ ও ৫৪ নং দাগ হতে প্রায় ৩১ বিঘা জমি ক্রয় করা ও বিভিন্ন মালিকদের কাছ থেকে লিজ নিয়ে ২০১৭ সাল থেকে চিংড়ী ঘের করে আসছিলেন দিন মজুর বৃদ্ধ অয়াজেদ আলী, আয়ুব আলী ও তার দুই পুত্র কামাল ও জামাল। এছাড়া তাদের পার্শবতী বসবাসকারী আইয়ুব আলী ২ বিঘা জমিতে বসত বাড়ী তৈরী করে ছেলে মেয়ে নিয়ে বসবাস করছেন। এখানে বসবাসকারীরা অসহায় ও গরীব হওয়ায় দীর্ঘ দিন থেকে তাদের পাশের গ্রামের আলম শেখ নামের এক সন্ত্রাসী ও ভুমি দস্যু এ জমিটি জোর পুর্বক দখলে নেয়ার চেষ্টা করে আসছে। এনিয়ে তাদের উভয়ের মধ্যে বাগেরহাট আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে। গত বছর এ জমি নিয়ে থানায় বেশ কয়েকবার শালিশ বৈঠকও হয়েছে। আর এ শালিশ বৈঠকের স্থানীয় মিজান সরদার নামের এক কথিত আমিন বিচারক হিসেবে আলম শেখের পক্ষে কাজ করেছে বলে অভিযোগ করে হামলার শিকার কামাল, জামাল ও তাদের বৃদ্ধ পিতা ওয়াজেদ আলী। কথিত আমিন মিজান সরদার এ জমির বেশ কয়েকবার মাপ ও কাগজ পত্র দেখাবালও করেছে।

বুধবার দুপুরের দিকে বাড়ীতে কেউ না থাকার সুবাদে মিজান সরদার ও আলম শেখ’র নেতৃত্বে ১৫/২০ জনের একদল সন্ত্রাসী অবৈধ ভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে ওই জমির চিংড়ী ঘের ও বসত বাড়ীতে হামলা ও লুটপাট চালায়। এসময় সন্ত্রাসীরা রাগ ও ক্ষোভে বাড়ীর ও চিংড়ী ঘেরের বেড়ীবাধ কেটে দেয় অন্য ঘেরের সাথে মিলিয়ে দেয়। খবর পেয়ে জমির মালিক কামাল, জামাল ও আইয়ুব আলী সহ তাদের লোকজন প্রতিবাদ করলে ওই সকল সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র রামদা দিয়ে জামালকে লক্ষ করে কোপ দেয়ার চেষ্টা করে। জীবন বাচাঁতে জামাল মাটিতে লুটিয়ে পরলে তার ন্ত্রী ফাহিমা বেগম স্বামীকে বাঁচাতে আসলে তাকেও বেদরক মারপিট করে এবং পড়নের কাপড়-চোপড় খুলে শ্লিতহানী ঘটায় বলে থানায় দেয়া এজাহারে উল্লেখ করা হয়। খবর পেয়ে মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ মনিরুল ইসলামের নিদের্শনায় সহকারী পুলিশ পুরদর্শক এস আই নুরে আলম সহ এদকল পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে।

পরে পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে প্রায় লক্ষাধিক টাকার মাছ ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় গাউস সরদারের ছেলে কথিম আমিন মিজান সরদার, আলম শেখ, দেলোয়ার, রাসেল, শহাজাহান শেখ সহ অজ্ঞত নামা আরো ১৫/২০ জনকে আসামী করে মোংলা থানায় পৃথক দুইটি এজাহার দাখিল করা হয়েছে। তবে এখনও কোন আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় এ সন্ত্রাসীদের ভয়ে এলাকায় চাঁপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ মনিরুল ইসলাম বলেন, হলদিবুনিয়া এলাকায় এক অসহায় দিন মজুরের বাড়ী ও চিংড়ী দখলের বিষয় নিয়ে থানায় পৃথক দুইটি অভিযোগ পেয়েছি। খবর পাওয়া মাত্র সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন সম্পুর্ন নিয়ন্ত্রনে। আর যেন কোন ঘটনা পুনরাবৃদ্ধি না ঘটে সে জন্য পুলিশের কঠোর নজরদারী রয়েছে, আসামীদেরও গ্রেফতার চেষ্টা চলছে।

Check Also

ভিক্ষা ছেড়ে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ চাহিদা সম্পর্ণ রতনদের পাশে প্রশাসন

॥ আবুল হোসেন, রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি ॥ একটা সময় মানুষের দুয়ারে দুয়ারে হাত পেতে জীবিকা …