সোমবার , ১৭ জুন ২০২৪

স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ করে শারীরিক সম্পর্ক , ভুয়া পুলিশ গ্রেপ্তার

॥দোহার-নবাবগঞ্জ , ( বিশেষ) প্রতিনিধি ॥

ঢাকার নবাবগঞ্জে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রীকে বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করার অভিযোগে আলকাম ওরফে কামরুল নামে কথিত এক ভূয়া পুলিশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

গ্রেপ্তারকৃত প্রতারক আলকাম পুলিশের কাছে অপহরণ ও মেয়েটি সাথে হওয়া ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে গ্রেপ্তারকৃত আলকামের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতনসহ পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।

রাজধানীর মিরপুর মডেল থানা এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে নবাবগঞ্জ থানার পুলিশ। আলকাম উপজেলার আগলা ইউনিয়নের ছাতিয়া এলাকার আব্দুল ওহাবের ছেলে। পরে শুক্রবার দুপুরে নবাবগঞ্জ থানায় ঢাকার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (দোহার-নবাবগঞ্জ সার্কেল) মো. আশরাফুল আলম এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ওই ভূয়া পুলিশকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আরও বলেন, আসামী আলকাম ওরফে কামরুল নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে স্কুল ছাত্রীর সাথে সর্ম্পক গড়ে এবং বিবাহের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু ভুক্তভোগী ছাত্রীর বয়স (১৮) না হওয়ার কারণে পরে বিবাহ করবে বলে জানায় মেয়েটির পরিবারকে। অতঃপর গত ৩১ মার্চ দুপুরে গালিমপুর বাজার এলাকা থেকে মেয়েটিকে অপহরণ করে রাজধানী ঢাকা নিয়ে যায়। কিছুদিন পর ঢাকা থেকে পঞ্চগড় নিয়ে যায়। অপহরণকৃত মেয়েটির সাথে জোর পূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করে। তিনি (কামরুল) আপত্তিকর ছবিও তুলে এবং ভিডিও ভাইরালের কথা বলে নগদ দশ লাখ টাকা দাবী করে অপহরণকৃত মেয়েটির স্বজনদের কাছে। টাকা না দিলে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করার হুমকি দেয় প্রতারক কামরুল।

এ বিষয়ে পুলিশ অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে এবং ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানকে অবগত করেন। পরবর্তীতে সময়ে পুলিশ সুপারের নির্দেশক্রমে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহ জালাল, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেন, মো. আমিরুল ইসলামসসহ পুলিশের একটি দল আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাজধানীর মিরপুর মডেল থানা এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার ওই প্রতারককে গ্রেপ্তার করে।

এ সময় তার ব্যবহার করা পুলিশের পোশাক, একটি মোবাইল ফোন ও পুলিশের বুট জুতা, বেল্ট ও কাউন্টার টেরিজম লগোযুক্ত ঢাকা মেট্রো-ল-২৮-৯৬৭৬ নম্বর কালো রং এর মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। গ্রেপ্তারকৃত প্রতারক আলকাম পুলিশের কাছে অপহরণ ও মেয়েটি সাথে হওয়া ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে গ্রেপ্তারকৃত আলকামের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতনসহ পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।

অপরদিকে সরেজমিনে আলকামের বিষয়ে আগলা ইউনিয়নের ছাতিয়া, গালিমপুর এলাকার খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতারক আলকামের গ্রামের বাড়ি আগলা ইউনিয়নে হলেও তিনি বহুদিন আগে থেকেই রাজধানী ঢাকায় বসবাস করেন। তার মা ও বাবার মধ্যে সম্পর্ক নেই। বাবা ও মায়ের একাধিক বিবাহের কারণে তিনি গ্রাম ছেড়ে চলে যায়। এজন্য এলাকার লোকজনও তাকে চেনেন না।

Check Also

দৌলতদিয়ায় উত্তরন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পূর্বপাড়ার ২ হাজার দুঃস্হ্য নারীদের জন্য কুরবানি মাংস বিতরণ

॥ আবুল হোসেন, রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি ॥ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া পূর্ব পাড়ার (যৌনপল্লীর) দুই …