মোংলায় ভূমিদস্যু ও খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ


FavIcon
গ্লোবাল সংবাদ
  • প্রকাশিত : ১৯ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

মাসুদ রানা, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি।।


জনসাধারণের চলাচলের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে সরকারের নেওয়া রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র গণঅসন্তোষ দেখা দিয়েছে মোংলার দিগরাজের কাপালিরমেঠ এলাকায়। সরকারি কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের পথ রুদ্ধ করার প্রতিবাদে ভূমিদস্যু ও স্থানীয় প্রাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন পালন করেছে সর্বস্তরের এলাকাবাসী। 


১৯ মে (মঙ্গলবার) বিকালে মোংলার দ্বিগরাজ এলাকার কাপালির মেঠ দোয়ানেরকুল নামক স্থানে এ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। দুপুরের পর থেকেই কাপালির মেঠ এলাকায় ব্যানার, ফেস্টুন হাতে জড়ো হতে থাকেন ৭টি গ্রামের শত শত ভুক্তভোগী নারী-পুরুষ ও শিশুরা। বেলা কমার সাথে সাথে এটি একটি বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মানুষের চলাচলকারী রাস্তা নির্মানের বাধাঁ ও সরকারী খালে বাধঁ দিয়ে চিংড়ি চাষের প্রতিবাদে সরকারের বিভিন্ন দফতরে গনস্বাক্ষরিত অভিযোগ।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও স্থানীয় বক্তারা জানান, দ্বিগরাজ কাপালির মেঠ দোয়ানেরকুল এলাকার এই ঐতিহ্যবাহী পথটি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পার্শ্ববর্তী ৭টি গ্রামের দৈনিক প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ অত্যন্ত কষ্ট ও ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করছেন। প্রতিদিন এই জরাজীর্ণ সড়ক ব্যবহার করেই স্থানীয় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রসার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন মোংলা ইপিজেডে কর্মরত হাজার হাজার সাধারণ গামেন্টস শ্রমিক ও দিনমজুরেরা, যাদের প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে এই পথেই কর্মস্থলে পৌঁছাতে হয়। 


একটি উন্নত রান্তার অভাবে বছরের পর বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জরুরি চিকিৎসার জন্য কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও এখানে এক বড় চ্যালেঞ্জ। বৃষ্টির সময় রাস্তাটি বন্ধ থাকলে ১০ মিটিরে রাস্তা প্রায় ২ ঘন্টা সময় পারি দিয়ে গন্তব্যে পৌছাতে এখানকার মানুষদের।

স্থানীয় জনগণের এই দীর্ঘদিনের যাতায়াত কষ্ট ও মানবিক ভোগান্তি লাঘব করতে সম্প্রতি সরকার এই এলাকার পুরাতন রাস্তাটি একটি নতুন পাকা রাস্তা নির্মাণের বিশেষ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। সরকারের এই জনকল্যাণমুখী ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগকে এলাকাবাসী অত্যন্ত আনন্দের সাথে স্বাগত জানায়। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। সম্পূর্ণ নিজেদের ব্যক্তিগত, অবৈধ ও সংকীর্ণ স্বার্থ হাসিল করার জন্য স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ভূমিদস্যু চক্র এই সরকারি রাস্তাটি নির্মাণে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করছে। ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করতে গেলে তাদের নানাভাবে হুমকি ও প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে স্থানীয়রা ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করেন।


বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা এই প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে আরও একটি ভয়াবহ ও আইনবহির্ভূত কর্মকান্ডের অভিযোগ তোলেন। তারা জানান, এই চক্রটি শুধু সরকারি রাস্তা নির্মাণেই বাধা দিচ্ছে না, বরং আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি খাল আড়াআড়িভাবে বাঁধ দিয়ে আটকে রেখেছে। সরকারি সেই প্রবহমান খাল সম্পূর্ণ অবৈধভাবে দখল করে তারা নিজেদের ব্যক্তিগত মাছের ঘের তৈরি করেছে। এর ফলে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। 


খালের পানি আটকে রাখায় বর্ষা মৌসুমে পুরো এলাকায় কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা কৃষি ফলনের বড় সংকটের মুখে পড়ছেন, যা স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশের উপর মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনছে। এ সকল কর্মকান্ডে প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করছে স্থানীয়রা। এ সকল ভুমিদস্যুর মুল হোতা মোঃ নিজামুল হকের বিরুদ্ধে সরকারের বিভিন্ন দফতরে গনস্বাক্ষরিত অভিযোগ দিয়েছে এরাকাবাসী।


সমাবেশে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং হাজার হাজার মানুষের মৌলিক অধিকার ও চলাচলের পথ বন্ধ করা একটি গুরুতর ও দন্ডনীয় অপরাধ। আমরা এই ভূমিদস্যুদের অন্যায়, অত্যাচার ও অপরাধমূলক কার্যক্রমের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা নিজেদের জমিতে শান্তিতে বাঁচতে চাই এবং সরকারী রাস্তা দিয়ে নির্বিঘেœ চলাচল করতে এবং তার এহেন অন্যায়মুলক কর্মকানস্ড থেকে রেহাই চাই।


বুড়িরডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান উদয় শংঙ্কর বিশ্বাস জানায়, প্রভাবশালী এই চক্রের অবৈধ আগ্রাসন ও অত্যাচার থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে এবং জনগণের স্বার্থে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারি রাস্তার কাজ পুনরায় চালু করতে তারা বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি), মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায়, এই সকল ভ’মিদস্যুদের প্রতিহত করা সহ সরকারী খাল অবমুক্ত ও সরকারী রাস্তা আদায়ের লক্ষ্যে আগামীতে আরও কঠোর ও লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ৭ গ্রামের বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ