আবুল হোসেন, রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি।।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দেবগ্রাম ইউনিয়নের তেনাপচা এলাকায় মো. রেজাউল করিম ওরফে আবু ডাক্তার নামে এক পল্লী চিকিৎসককে খুনের দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এক এর বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, বাবলু সরদার, টোকন সরদার ও গাজীয়ার সরদার।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, আতর আলী চেয়ারম্যান, রায়হান সরদার, হাবিবুর রহমান হবি সরদার, হেলাল খান, জিল্লুর রহমান ও জিয়া মন্ডল। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত এসব আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতর আলী চেয়ারম্যান ও তার বড় ছেলে মৃত্যুদণ্ড সাজাপ্রাপ্ত আসামি বাবলু সরদার ও আরেক ছেলে , মৃত্যুদণ্ড সাজাপ্রাপ্ত টোকন সরদার সহ সাতজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি পলাতক রয়েছে।
মামলার রায়ের সময় আসামিদের মধ্যে ১২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ১০ জন খালাস পেয়েছেন। তবে, আসামি জিল্লুর রহমান ও জিয়া মন্ডলের সাজা হওয়ায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সাজাপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল রশীদ মোল্ল্যা সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর গোয়ালন্দের দেবগ্রাম ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন চলাকালীন সাবেক চেয়ারম্যান আতর আলীর বড় ছেলে বাবলু সরদারের সঙ্গে দেবগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলামের সাথে বাবলু সরদারের কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে আতর আলীর চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বাবলু সরদার, টোকন সরদার, রায়হান সরদার, গাজীর সরদারসহ বেশ কয়েকজন আতর আলীর বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে অবস্থান নেয়। হাফিজুল চেয়ারম্যান সমর্থকরা সেই পথ দিয়ে ফেরার পথে তাদের আটকে মারধর করা হয়।
ওই সময় সেখান দিয়ে ফিরছিলেন পল্লী চিকিৎসক আবু ডাক্তার। তাকেও আটক করে মারধর করা হয়। এতে গুরুত্বর আহত হন তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে রক্তাক্ত অবস্থায় গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই মারা যান আবু ডাক্তার। এই ঘটনায় নিহতের বাবা মো. মোবারক মোল্লা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।
২০২২ সালের ৫ অক্টোবর মামলাটি তদন্ত করেন ২২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। মামলাটির বিচারকালে ২৯ জনের সাক্ষ্য নেয় আদালত।
নিহত পল্লী চিকিৎসক আবু ডাক্তারের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম বলেন, আদালতের রায়ে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি। তবে আমাদের প্রত্যাশা ছিলো ঘটনার হুকুম দাতা আতর আলী চেয়ারম্যানের যাবজ্জীবন মৃত্যুদণ্ড না হয়ে মৃত্যুদন্ড রায় হবে। আদালতের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে সাজা কার্যকর করবে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, পল্লী চিকিৎসক আবু ডাক্তার হত্যা মামলায় আদালতে রায় হয়েছে শুনেছি। আদালত থেকে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের অস্থায়ী ও স্থায়ী ঠিকানায় গ্রেফতারি পরোয়ানা পাঠানো কপি এখনও থানায় এসে পৌঁছায়নি। আসামিদের গ্রেফতারের পরোয়ানা পৌছানো মাত্রই আইনিপদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :