বিধবা নারীর ঘরে তালা ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরি, তিন সন্তান নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার


FavIcon
গ্লোবাল সংবাদ
  • প্রকাশিত : ১৮ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

মো. রেদওয়ান হোসেন, সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি : 


নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরবাটা ইউনিয়নের চরবাটা খাদ্য গুদামের উত্তর পাশের কুদ্দুস ব্যাটারীর বাড়ির এক বিধবা নারীর বসতঘরে তালা ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ তিন সন্তান নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী জান্নাতুল ফেরদৌস (৩৫)।


ভুক্তভোগী জানান, উপজেলার ২নং চরবাটা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জান্নাতুল ফেরদৌসের স্বামী মিজানুর রহমান দুই বছর আগে দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর থেকে তিনি স্বামীর গড়ে যাওয়া বাড়িতে তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন। তবে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


তার দাবি, স্বামীর মৃত্যুর পর মেটলাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রায় ৭ লাখ টাকার মৃত্যু দাবি (ডেথ বেনিফিট) তার শাশুড়ি নমিনি হিসেবে উত্তোলন করেন। এছাড়া স্বামীর রেখে যাওয়া অন্যান্য সম্পত্তি ও সন্তানদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে বিভিন্নভাবে চাপ, ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সংক্রান্ত একটি মামলাও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।


ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ১৮ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে তিনি বাবার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার সুযোগে দুর্বৃত্তরা তার বসতঘরের তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। পরে আলমারি ও ওয়ারড্রোবের তালা ভেঙে জমির দলিল, বিমার কাগজপত্র, সাগরিকা এনজিওতে করা প্রায় ৪ লাখ টাকার ডিপিএস সংক্রান্ত নথি, জাতীয় পরিচয়পত্র, সন্তানদের জন্মনিবন্ধন সনদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায়। তিনি আরও দাবি করেন, ঘরে থাকা অন্যান্য মালামাল অক্ষত থাকলেও মূলত সম্পত্তি ও মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টগুলোই নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে ঘরের কিছু জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।


জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, 'স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই আমি ও আমার সন্তানরা নানা ভয়-ভীতির মধ্যে আছি। আমার দুই সন্তান বর্তমানে লেখাপড়া করছে। গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র হারিয়ে আমি চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছি। সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় আছি।' এলাকাবাসীর অভিযোগ, এতিম তিন সন্তানের সম্পত্তির অধিকার ক্ষুণ্ন করা, বাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা এবং বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা থেকে তাদের বঞ্চিত করার যে অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভুক্তভোগী পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।


এ ঘটনায় জান্নাতুল ফেরদৌস চর জব্বর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চর জব্বর থানার ওসি রফিকুল হাসান বলেন, এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তিনি জানান।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ