মমিনুল ইসলাম, তজুমদ্দিন প্রতিনিধি।।
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার ৩ নং চাঁদপুর ইউনিয়নের (বাংলা ১৪৩৩) অর্থ বছরের চর মোজাম্মেল ও চর লাদেনের খেয়াঘাট ইজারা বিজ্ঞপ্তির নোটিশ গোপন করে পছন্দের ব্যক্তিকে খেয়াঘাট পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।যথাযথ প্রতিযোগিতা না হওয়ায় সরকার প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ দরদাতারা।
নিয়ম অনুযায়ী সরকারি মালিকানাধীন খেয়াঘাটগুলো প্রতি বছর উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা দেওয়ার কথা। এর জন্য বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং অফিসের নোটিশ বোর্ডে তা টানিয়ে রাখার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে তজুমদ্দিনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খেয়াঘাটের ক্ষেত্রে এই নিয়মের কোনো তোয়াক্কাই করা হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ দরদাতাদের অংশ নিতে না দেওয়ার উদ্দেশ্যে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। কোনো দৃশ্যমান স্থানে ইজারা বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি।
পছন্দের ব্যক্তিকে সুবিধা দিতে ও অল্প দামে ইজারা নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করার জন্য প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটকে নামমাত্র মূল্যে ঘাটগুলো ইজারা দিতেই এই "লুকোচুরি"র আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা না হওয়ায় প্রকৃত বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে ঘাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। এতে করে সরকারি কোষাগারে জমা হওয়া বড় অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)।
ক্ষুব্ধ কয়েকজন দরদাতা জানান, "আমরা ইজারা প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু কবে নোটিশ দেওয়া হয়েছে আর কবে জমা নেওয়া হয়েছে তা কেউ জানতে পারেনি। একটি সিন্ডিকেট অফিসকে ম্যানেজ করে পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করেছে।"
নোটিশ গোপনের অভিযোগের বিষয়ে ৩ নং চাঁদপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান শাজাহান মিয়া জানান, তিনি নোটিশ প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন নোটিশ প্রকাশ হওয়ার কথা কিন্তু কেন প্রকাশ হয়নি সেই বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এই বিষয় ৩ নং চাঁদপুর ইউনিয়নের সচিব ইয়াজ উদ্দিন মুঠোফোনে সাংবাদিকদের জানান তিনি অসুস্থতার কারণে ছুটিতে আছেন তবে খেয়াঘাট ইজারার বিষয়ে তিনি মুখ খুলেননি।
তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম জানান, এই বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ করেনি।লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে এই অনিয়মের ফলে ঘাটে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রীরাও শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, কম মূল্যে ইজারা পেলেও সিন্ডিকেটটি যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টোল আদায় করে ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে। সচেতন মহল এই টেন্ডার বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ইজারা দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :