এ আর আজাদ সোহেল, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি।।
নোয়াখালীতে আবদুল মোতালেব ওরপে কামাল হুজুরের বিরুদ্ধে আপন মৃত ভাইয়ের সম্পত্তি ছিনিয়ে নিতে ভাইয়ের স্ত্রী বিবি হাজেরা খাতুনকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়াও স্থানীয়দের কাছে কামাল হুজুর নামে পরিচিত এই ব্যক্তির বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে ঐ অসহায় পরিবারসহ পুরো গ্রাম এখন মামলার হয়রানিতে দিশেহারা। প্রভাবশালী এ ব্যক্তি সদর উপজেলার ৮ নং এওজবালিয়া ইউনিয়নের চর করমুল্লা গ্রামে মৃত নুরুল হকের ছেলে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, তার এক ভাই মোঃ হারুন জীবিত থাকাকালীন নিয়মতান্ত্রিকভাবে ২৭ শতক জমি ক্রয় করেছিলেন। কিন্তু সেই ভাইয়ের মৃত্যুর পরপরই কামাল হুজুর ওই সম্পত্তির কেনার জন্য মৃত ভাইয়ের বউয়ের উপর চাপ সৃষ্টি করেন। । কিন্তু মৃত ভাইয়ের পরিবার ঐ সম্পত্তি আরেক ভাই কোরবান আলীর নিকট বিক্রি করেন। কিন্তু ঐ ভাই কোরবান আলীও মারা যান। জমি কিনতে ব্যর্থ হয়ে তিনি এখন মৃত ভাইয়ের স্ত্রী হাজেরা খাতুন ও সন্তানদের উচ্ছেদের জন্য একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন বলে তারা অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের মেয়ে আয়শা জানান, "যিনি আশ্রয় দেওয়ার কথা ছিল, তিনিই আজ আমাদের পথে বসানোর চেষ্টা করছেন। পিতার শোক কাটতে না কাটতেই তিনি হয়রানি শুরু করে দিয়েছেন।
এ দিকে কামাল হুজুরের এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে রেহাই পাচ্ছেন না সাধারণ গ্রামবাসীও। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি বা সালিশ দরবার কোনো কিছুই তিনি তোয়াক্কা করছেন না। উল্টো যারা প্রতিবাদ করেন, তাদের নামেই একাধিক হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেন তিনি। তার এই মামলার কারনে অনেক পরিবার এখন ভয়ে তটস্থ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী জানান, কামাল হুজুরের ক্ষমতার দাপট এবং মামলার ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায় না। কিন্তু পর্দার আড়ালে চাপা ক্ষোভ এখন বিস্ফোরন মুখর। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি এই মামলাবাজ ও ষড়যন্ত্রকারী ব্যক্তির হাত থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয় কামাল হুজুর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,তারা যা বলেছে সম্পুর্ন মিথ্যা। আমি তাদের হয়রানি করিনি বরং তারা সমাজের কিছু খারাপ শ্রেনীর মানুষের ফলোবনে পড়ে আমাকে মানুষিক ও আর্থিক হয়রানি করছেন। যত শালিশ হয়েছে একে একে সব শালিশ তারাই অমান্য করেছে। তারা আমার সিমানার মধ্যে থেকে জোর পুর্বক বালু উত্তোলন করেছে। আমার ভাইয়ের ২৭শতক জমি এক ভাই আড়াই লাখ টাকা দিয়ে কিনেছে। আমার দীন-ই প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসার জমিতে চলাচলের জায়গা না থাকায় আমাকে শালিশদারগন সে জমির অর্ধেক সাড়ে ১৩ শতক জমি ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা দিয়ে কিনতে সিদ্ধান্ত দিছে।আমি শান্তির স্বার্থে তাও মেনে নিয়েছি। কিন্তু তারা জমি রেজিষ্ট্রেশন না করে উল্টো আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :