নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ঘরবাড়ি


FavIcon
গ্লোবাল সংবাদ
  • প্রকাশিত : ০৫ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ঘরবাড়ি-সংগ্রহীত ফটো
___________________________________



নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে অল্প সময়ের আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১ হাজার ঘরবাড়ি। ভেংগে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিছু দোকান পাটও। বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কয়েকটি গ্রামের বিদ্যুৎ সংযোগ।

রোববার (০৫ অক্টোবর) সকালে কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম দলিরাম বানিয়াপাড়া গ্রামে প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আকস্মিক এ ঝড়ে প্রায় ১ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি আংশিক ও সম্পূর্ণ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ঝড়টি সর্বোচ্চ ৫ মিনিটের মতো স্থায়ী ছিল। এতে ধান, কলা, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন ও অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অসংখ্য গাছপালা ভেঙে পড়েছে এবং কিছু দোকানপাটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুতের তার ছিড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কয়েকটি গ্রামে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মজিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘হঠাৎ এমন ঝড় উঠবে তা কেউ বুঝতেই পারিনি। চোখের পলকে ঘরবাড়ি উড়ে গেল, গাছপালা ভেঙে পড়ল। আল্লাহর রহমতে বড় কোনো প্রাণহানি হয়নি, তবে ক্ষতির পরিমাণ অনেক।’

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ধান আর কলার বাগান একেবারে শেষ হয়ে গেছে। পাঁচ মিনিটের ঝড়ে বছরের পরিশ্রম নষ্ট হয়ে গেল। এখন বুঝতে পারছি না কীভাবে পরিবার নিয়ে চলবো।’

স্থানীয় গৃহবধূ রোকসানা বেগম বলেন, ‘সকালে হঠাৎ করে কালো মেঘে আকাশ ঢেকে যায়, একটু পরেই ভয়াবহ বাতাস শুরু হয়। বুঝে ওঠার আগেই ঘরের টিনের চাল উড়ে গেল। বাচ্চাদের নিয়ে কোনোমতে পাশে থাকা এক আত্মীয়ের ঘরে আশ্রয় নিই। জীবনে এমন ভয়ংকর ঝড় আর দেখিনি।’

গাড়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জোনাব আলী বলেন, ‘সকালের আকস্মিক ঝড়ে পুরো ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে আমার এই ইউনিয়নের ৩, ৫, ৬ ও ৮, ৯ ওয়ার্ডে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত এক হাজার ঘরবাড়ি আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে লণ্ডভণ্ড হয়েছে। অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করছি এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রীতম সাহা বলেন, ‘ঝড়ের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার কাজের জন্য ফায়ার সার্ভিসকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে গবাদিপশু ও মানুষের চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের প্রায় ১ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে দ্রুত তাদের সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি আপাতত শুকনো খাবার সরবরাহের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।’

হতাহতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় একজন গুরুতর আহত হয়েছেন, তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।



আব্দুস সালাম,নীলফামারীঃ 


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ