সুবর্ণচরে রাতের আঁধারে বিদ্যুতের খুঁটি চুরিকালে ধরা পড়ল শ্রমিকদল নেতা


FavIcon
গ্লোবাল সংবাদ
  • প্রকাশিত : ১৬ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: 


নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুতের একটি খুঁটি (পিলার) রাতের আঁধারে চুরি করে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় শ্রমিক দল নেতা মো. লিটনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। লিটন একই ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরক্লার্ক ইউনিয়নের কেরামতপুর গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে কেরামতপুর এমএস উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে খালপাড় সংলগ্ন স্থানে স্থাপিত পল্লী বিদ্যুতের একটি খুঁটি গত শনিবার রাতে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিনের বেলায় খুঁটিটি খুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা বাধা দেন। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে খুঁটিটি তুলে একটি বড় ভ্যানে করে সেটি নিয়ে যাওয়ার সময় বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুঁটিটি ভ্যানে তোলার সময় স্থানীয়রা বাধা দিলে মো. লিটন দাবি করেন, তিনি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের অনুমতি নিয়েছেন। তবে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ খুঁটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য কাউকে কোনো ধরনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এলাকাবাসীর দাবি, খুঁটিটি সরকারি সম্পদ এবং স্থানীয় একটি মক্তবসহ আশপাশের জনগণের বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই এটি অপসারণের কোনো সুযোগ নেই।


স্থানীয়দের অভিযোগ, এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মো. লিটন উত্তেজিত আচরণ করেন এবং উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। ঘটনার দুটি ভিডিও স্থানীয়দের হাতে রয়েছে। ভিডিওতে তাকে খুঁটিটি নিজের বোনের বাড়িতে নেওয়ার কথা বলতে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে তর্কে জড়াতে দেখা যায় বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী। পরে ঘটনাস্থলে লোকজনের উপস্থিতি বেড়ে গেলে তিনি খুঁটিটি ফেলে চলে যান।


এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন অনিয়মমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. লিটন বলেন, স্থানীয় ইলেকট্রিশিয়ান মোহাম্মদ কাসেম তাকে খুঁটিটি নেওয়া যাবে বলে জানিয়েছিলেন এবং অফিস থেকে অনুমতির বিষয়টিও তার কাছ থেকেই শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে একাধিকবার ফোন করা হলেও ইলেকট্রিশিয়ান মো. কাশেম কল রিসিভ করেননি। অন্যদিকে ইলেকট্রিশিয়ান কাশেমের বিরুদ্ধে এর পূর্বেও এ সংক্রান্ত একাধিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।


সুবর্ণচর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আরব আলী সেক বলেন, “পল্লী বিদ্যুতের কোনো খুঁটি বা সরঞ্জাম অনুমোদন ছাড়া অপসারণ কিংবা আত্মসাতের চেষ্টা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি সমর্থকেরা বলছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।


ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে। সরকারি সম্পদ আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ