বিরামপুরে প্রতিবন্ধী নারীকে অপহরণ ও ধর্ষণচেষ্টা: জনরোষের মুখে প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার


FavIcon
গ্লোবাল সংবাদ
  • প্রকাশিত : ২৪ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি | মো. ইয়া রাব্বি


দিনাজপুরের বিরামপুরে এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীকে অপহরণ করে নির্জন জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে ঘটনার পরপরই পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে শেষ রক্ষা হয়নি মূল হোতা আলমগীর হোসেনের।


গত ২১ মার্চ দুপুর। বিরামপুরের খানপুর ইউনিয়নের কুর্শাখালি-ডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা নাদিরা বেগমের (৪৮) মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়েটি বাড়ির পাশেই অবস্থান করছিল। অভিযোগ উঠেছে, পাশের ফুলবাড়ী উপজেলার তেতুঁলডাঙ্গা গ্রামের মো. আলমগীর হোসেন (৩৯) কৌশলে মেয়েটিকে ফুসলিয়ে মোটরসাইকেলে তুলে নেয়। এরপর তাকে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় খাগড়াছড়া এলাকার একটি গভীর ও নির্জন জঙ্গলে।


জঙ্গলের নিস্তব্ধতা ভেঙে ভুক্তভোগী নারীর আর্তচিৎকার ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা অভিযুক্ত আলমগীরকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে আলমগীরের ৩–৪ জন সহযোগী সেখানে পৌঁছে স্থানীয়দের ওপর চড়াও হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, সহযোগীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আলমগীরকে ছিনিয়ে নেয় এবং বাধা দিতে গেলে আলিফ নামে এক সাক্ষীর ভাইকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।


ঘটনাটি বিরামপুর থানা পুলিশের কানে পৌঁছাতেই শুরু হয় বিশেষ অভিযান। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে পুলিশ পলাতক প্রধান আসামি আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। বিরামপুর থানার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান: "ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। আমরা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছি এবং নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। যারা আসামীকে ছিনিয়ে নিতে সাহায্য করেছে, তাদের প্রত্যেককে শনাক্ত করা হয়েছে। খুব দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।"


এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ঘৃণা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এলাকার সচেতন মহলের দাবি, একজন অসহায় প্রতিবন্ধী নারীর ওপর এই পাশবিক হামলার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন দুঃসাহস না দেখায়।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ