দৌলতদিয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মাদক সেবনকারীরা গ্রেপ্তার হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে গডফাদাররা।


FavIcon
গ্লোবাল সংবাদ
  • প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

আবুল হোসেন, রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি :


রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দের দৌলতদিয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মাদক সেবনকারীরা গ্রেপ্তার হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে মূল গডফাদাররা। ফলে গোয়ালন্দ উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন, পৌরসভা সহ মাদকের ভয়াল আগ্রাসনে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা শঙ্কিত রয়েছেন। এলাকায় চুরি, ছিনতাই বৃদ্ধি পেয়েছে।


গত ১১ এপ্রিল মাদকাসক্ত সন্তানের হাতে গোয়ালন্দ পৌরসভা ৪ নং ওয়ার্ড ক্ষুদিরাম সরকারের পাড়া এলাকায় মাদকের টাকা না দেওয়ার কারনে ছেলে গোবিন্দ ঘোষের হাতে এলোপাতাড়ি কোপে মা শিখা রানী (৪০) গুরুতর আহত হয়েছে। আহত শিখা রানী কে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর পর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় স্বাস্থ্যের অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।


অপরদিকে গত১০ এপ্রিল মধ্যে রাতে দৌলতদিয়া সামছু মাষ্টার পাড়া এলাকায় স্থানীয় মান্নান সরদারের ঘরটি মাদকসেবিদের আগুনে পুড়ে যায়। হিরোইন, ইয়াবা-গাঁজা,ফেন্সিডিলের নিরাপদ জোন হিসাবে পরিণত হয়েছে দৌলতদিয়া পুড়া ভিটা এলাকা সহ আশপাশের এলাকা। পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, গোয়েন্দ সংস্থা মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর অভিযানে ইতোপূর্বে অর্ধশত সেবনকারী গ্রেপ্তার হয়। কিন্তু এর নিয়ন্ত্রক গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় মাদকের ছোবল থামছে না।


বিশেষ করে দৌলতদিয়া পুড়াভিটা এলাকায় মাদকের সম্রাজ্ঞী রোজি বেগম, সাথী, লাইলী, মৌসুমি, শাহানাজ, রোজির ছেলে সুমন, রোজির ছোটভাই জাহাঙ্গীর, পদ্মা বোডিংয়ের মালিক মাদক ব্যবসায়ী আজিজ প্রামাণিক এদের নিয়ন্ত্রণে ঘাট এলাকায় মাদক বিক্রির আবাদ বানিজ্য চলে। পাতা বেগম পুড়াভিট এলাকায় ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি করে।


রাজবাড়ী জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মাদক সম্রাজ্ঞী রোজী বেগমের নামে ৫টি মাদক মামলা। রোজী ছেলে সুমনের বিরুদ্ধে ২টি মামলা, অন্য প্রতিজনের বিরুদ্ধে ১টি করে মামলা রয়েছে। এছাড়া গোয়ালন্দ ঘাট থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ( ডিবি)তে এদের নামে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।


জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সাথে একাধিক সভায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স ঘোষণা করলেও এখন পর্ষন্ত মাদক ব্যবসায়ীরা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।


সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী গত ১৩ মার্চ শুক্রবার গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা ও গ্রেফতারের সংখ্যা সভায় উপাস্থান করলে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের উদ্দেশে বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করা হয় না গ্রেফতার করা হচ্ছে মাদক সেবনকারীদের। প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সাথে সাথে হল রুমে উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কন্ঠে উচ্চ ধ্বনি দিয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে একমত প্রকাশ করেন।


এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ অনেকেই মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার না হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।


মাদকদ্রব্যের তালিকায় গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ ইত্যাদি। এসব মাদকের ছড়াছড়ি এলাকায় সুস্থ মানুষদের জীবন অসহনীয় হয়ে উঠেছে। তাদের স্কুল, কলেজপড়ুয়া সন্তানরা অভিভাবকদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে আড়ালে-আবডালে থেকে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। প্রতিদিন উঠতি বয়সের যুবক মাদক সেবনের জন্য দৌলতদিয়া পুড়াভিটা এলাকায় মোটরসাইকেল,প্রাইভেট কার চলে আসে।


অভিজ্ঞমহলের অভিমত মাদক বাণিজ্য অচিরেই বন্ধ না হলে আমাদের তরুণ সমাজ মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।


গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, মাদকসেবনকারী, মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতারের চেষ্টা আমাদের সব সময় অব্যাহত আছে। এই প্রচেষ্টা আমাদের সব সময়ই থাকবে। হয়ত প্রত্যাশা অনুযায়ী অনেক সময় পুরোটাই পারি, আবার অনেক সময় প্রত্যাশা অনুযায়ী পারি না। আমাদের চেষ্টার ঘাটতি নাই। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের খোঁজ খবর নিচ্ছি। তথ্য পেলে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনবো।


জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ- পরিচালক আবু আব্দুলাহ জাহিদ বলেন, গত মে মাসে আমাদের অভিযান সংখ্যা ৪২টি, মামলার সংখ্যা ১১টি। মাদক ব্যবসায়ীদের উপর আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। আলামত সহ তথ্য পাওয়া গেলে তাদের কে আইনের আওতায় আনা হবে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ