সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি :
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আকস্মিকভাবে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার কয়েকটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন। রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে তিনি প্রথমে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান।
পরিদর্শনকালে ছুটি ছাড়াই দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় মেডিকেল অফিসার ডা. শাওলী নানজিবা তন্নিকে বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের এসি চুরির ঘটনায় নাইট গার্ড মোস্তফা বিশ্বাসকে বরখাস্ত এবং তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের জন্য সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেন।

পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে দীর্ঘ এক মাস ধরে ছুটি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় চিকিৎসক ডা. সোহানা সেলিমকে বরখাস্তের নির্দেশ দেন। এরপর তিনি হাসপাতালের রান্নাঘর, ওয়াশরুম এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। এসময় রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার খোঁজখবর নেন। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালও পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে রোগীর তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা কম। গত ১৭ বছরে স্বৈরশাসন চিকিৎসক নিয়োগে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেয়নি। ফলে স্বাস্থ্যসেবায় নানা সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করতে ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় ১০০ শয্যার ফিজিওথেরাপি ইউনিট এবং আধুনিক প্যাথলজি সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এসব প্রতিষ্ঠানেও ১০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন করা হবে। ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ইউনিয়ন পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রকে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। মন্ত্রী আরও জানান, খুব শিগগিরই ই-হেলথ কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কুদরত-ই-খুদাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আপনার মতামত লিখুন :