নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপে একটি ৫০ শয্যার হাসপাতাল স্থাপনের দাবিতে ব্যতিক্রমী মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হাঁটুসমান পানিতে দাঁড়িয়ে তারা স্বাস্থ্যসেবার করুণ বাস্তবতা তুলে ধরেন এবং দ্রুত হাসপাতাল নির্মাণের জোর দাবি জানান।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের নামার বাজার এলাকার ইসলামপুর গ্রামে আয়োজিত এ মানববন্ধনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যসহ শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। তাদের হাতে ছিল হাসপাতাল নির্মাণের দাবিসংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ হলেও স্বাস্থ্যসেবায় চরম অবহেলিত নিঝুমদ্বীপ। কয়েক হাজার মানুষের বসবাস হলেও এখানে নেই একটি মানসম্মত হাসপাতাল। ফলে প্রসূতি, শিশু, বৃদ্ধ কিংবা গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য ঝুঁকি নিয়ে নদীপথ পাড়ি দিয়ে হাতিয়া উপজেলা সদর বা মূল ভূখণ্ডে যেতে হয়। প্রতিকূল আবহাওয়া, জোয়ার কিংবা দুর্যোগের সময় সেই যাত্রা অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভব হয়ে পড়ে।
বক্তারা জানান, এই সংকটের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে গত বুধবার। জোয়ারের পানি ও জলাবদ্ধতার কারণে এক প্রসূতিকে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। চিকিৎসার অভাবে তিনি অনাগত সন্তানসহ নিজ বাড়িতেই মৃত্যুবরণ করেন। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় পুরো নিঝুমদ্বীপে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
বক্তারা বলেন, "একটি হাসপাতালের অভাবে আর কোনো মায়ের প্রাণ ঝরে পড়ুক, তা আমরা চাই না। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। নিঝুমদ্বীপের মানুষও সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকতে পারে না।"
তারা অবিলম্বে নিঝুমদ্বীপে একটি ৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ, সার্বক্ষণিক জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু, পর্যাপ্ত দক্ষ চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিতকরণ এবং জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স ও নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
মানববন্ধন শেষে স্থানীয়রা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন। তাদের ভাষায়, "স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি আমাদের ন্যায্য অধিকার। সেই অধিকার আদায়ে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।"
আপনার মতামত লিখুন :