আসাদুর রহমান হাবিব, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি।।
প্রায় ৪দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশী টাকায় ৫১ কোটি ৫৭ লাখ টাকার সমপরিমাণ সংস্কারের ব্যয় দেখিয়ে উৎপাদনে ফেরার পাঁচদিনের মাথায় আবারো বন্ধ দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩য় ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন।
বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩য় ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারণ ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন,সেই ইউনিটটি গত ২০২৫ সালের ২৫শে অক্টোবর জেনারেল ওভারহোলিং এর জন্য জরুরী ভিত্তিতে বন্ধ করা হয়।
পরে ৫১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে দেখিয়ে ৩য় ইউনিটের জেনারেল ওভারহোলিং সংস্কার করে গত ২০২৬ সালের ২০ মে দীর্ঘ সাত মাস পর সংস্কার কাজ শেষে ইউনিটটি পূণরায় চালু করে ফেরানো হয়েছিল উৎপাদনে।
উৎপাদনে ফেরার পর দুইটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ বিকল হওয়ায় গত ২৫শে মে মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় আবারো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় ইউনিটটি।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড(বিপিডিবি)দ্বারা পরিচালিত বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লার উপর নির্ভর করে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি প্রতিস্থাপন করা হয়।
আর এর কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয় চিনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনাল এর উপর যাঁর কার্যক্রম বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটে ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটে ৫২৫ মেগাওয়াটের ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা থাকলেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২য় ইউনিটটি প্রায় আট বছর ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।
এর মধ্যে ১ম ও ৩য় ইউনিটটি জোড়াতালি দিয়ে চলমান রাখলেও যান্ত্রিক ত্রুটিতে কখনো ১ম ইউনিট কখনো ৩য় ইউনিট আবার কখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়,যাঁর ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিশ্চয়তা তরি হয়।
আর এভাবেই চলে আসছিল বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পটিতে প্রায় দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে যাঁদের মাস গেলেই কোটি কোটি টাকা বেতন ভাতা দিতে হয় সরকারকে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পটি পরিচালনার বিষয়ে তথ্য সুত্রে জানা গেছে জেনারেল ওভারহোলিংসহ বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্রাংশ সংস্কারে নতুন যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপনের পরিবর্তে পুরোনো যন্ত্রাংশ মেরামত করে জোড়াতালি দিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে যাঁর ফলে সংস্কার করে উৎপাদনে যাওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই অকেজো হয়ে পড়ছে,অথচ সংস্কারের যন্ত্রাংশের ব্যয় দেখানো হয়েছে ৪দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৫১কোটি ৫৭ লাখ টাকা।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননা,পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে দেখা করা হয় তাঁর সাথে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনী যন্ত্রাংশ সংস্কারে নতুন যন্ত্রাংশ ব্যতীত পুরোনো যন্ত্রাংশ মেরামত করে ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন প্রয়োজনীয় নতুন যন্ত্রাংশ চিন থেকে নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে সেই যন্ত্রাংশগুলো এলেই প্রতিস্থাপন করা হবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা ফিরে আসবে।
প্রায় ২০২৫ সাল থেকে চিন থেকে যন্ত্রাংশগুলো নিয়ে আসার কথা শুনছি এবং সংস্কারের সাত মাস পর চালু করা হয়েছিল ইউনিটটি যা আবারো বন্ধ করা হয়েছে এতে সংস্কারের ব্যয় দেখানো হয়েছে ৪দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার,যা বাংলাদেশী টাকায় ৫১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা এখনো নতুন যন্ত্রাংশ নিয়ে আসা হয়নি কেন,এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন যন্ত্রাংশগুলো অর্ডার কনফার্ম করা হয়েছে আপাতত পুরনো যন্ত্রাংশগুলো মেরামত করে পুনরায় চালু করা হয়েছিল এবং চালুর অল্প সময়ের মধ্যে দুইটি যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় জরুরী ভিত্তিতে উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে।
প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ চীন থেকে আনা হচ্ছে যন্ত্রাংশগুলো এসে পৌঁছালে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ৩য় ইউনিটটি সংস্কার করে পুনরায় চালু করে উৎপাদনে ফেরানো সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
আপনার মতামত লিখুন :