মাসুদ রানা, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি।।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-র বিরুদ্ধে একটি মহলের তথাকথিত ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ এবং তার অপসারণের দাবিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দুটি পক্ষের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ ও পাল্টা-পাল্টি অবস্থান দেখা দিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ জুলফিকার আলী, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান রহমান মানিক, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির তালুকদার সহ পৌর ও উপজেলার বিএনপির দায়িত্বশীল অনেক নেতাদের দুই পক্ষের কোন পক্ষের ব্যানারে দেখা যায় নি তাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোংলা থানার ওসির সাম্প্রতিক কিছু কার্যক্রম এবং তাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া একটি পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির একটি পক্ষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিল।
এর জের ধরে ওসির অপসারণের দাবিতে গত ১৮ জুন (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় পৌর বিএনপির ব্যানারে পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করে দলটির একটি পক্ষ। মিছিলে উপস্তিতি ছিলো পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক দিদারুল আলম, সদস্য সচিব নুরুদ্দিন টুটুল, ও তাঁতি দলের সদস্য সচিব আজিজুর রহমান সোহাগ , পৌর ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাহেব আলী মল্লিক, বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম, যুবদল নেতা বিএম ওয়াসিম আরমান ও রতন মাহমুদ,মহসিন পাটোয়ারী, সহ স্থানীয় বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এদিকে এক পক্ষ যখন ওসির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নিন্দা ও মিছিল-সমাবেশ করছে। ঠিক তার তিন দিন পর ২১ জুন (রবিবার) দুপুরে মোংলা প্রেস ক্লাবের হল রুমে মোংলা পৌর ও উপজেলা বিএনপির ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করে পাল্টা অবস্থান নিয়েছে বিএনপির আরেকটি পক্ষ। সংবাদ সম্মেলনে ওসির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে 'মনগড়া ও তথাকথিত ষড়যন্ত্র' বলে দাবি করেন তারা।
সংবাদ সংবাদ সম্মেলনরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএপির সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি। এসময় পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম নুর জনি, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব এম এ কাশেম, মোংলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খালিদ মাহমুদ সোহাগ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মোঃ পলাশ, সদস্য সচিব মোঃ জুয়েল রানা, পৌর মহিলা দলের সভানেত্রী কমলা বেগম, চিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ ফারুক হাওলাদার, সুন্দরবন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ খানজাহান সরদার সহ উপজেলা ও পৌর বিএনপিসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের একাংশের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে পৌর বিএনপির সাংগঠনিক গোলাম নুর জনি ছাড়া উল্লেখযোগ্য অন্য কোন নেতাকর্মীকে সংবাদ সম্মেলনে দেখা যায়নি।
এ বিষয় মোংলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি বলেন, বর্তমান ওসি আতিকুর রহমান মোংলা থানার বিভিন্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের নিয়মিত ও কঠোর আইনি দায়িত্ব পালনের কারণে অপরাধীরা এবং একটি স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থে আঘাত লেগেছে। সেই আক্রোশ থেকেই ওসির অপসারণের মিথ্যা দাবী তুলছে।
তিনি অভিযোগে করেন, বিএনপির নাম ব্যবহার করে যারা গত ১৮ জুন ওসির অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে, তারা মূলত দলের ভেতরের শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়। তারা মোংলার শান্ত পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত।
উপজেলা বিএনপির এই শীর্ষ নেতা ঊর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো মিথ্যা বা সাজানো অভিযোগের ভিত্তিতে যেন ওসির বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক বা অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া না হয়। একই সাথে তিনি স্থানীয় নেতাকর্মীদের এই বিভ্রান্তিকর কর্মসূচিতে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানান।
পাল্টা-পাল্টি এই কর্মসূচির বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন সাবেক শীর্ষ নেতারা জানান, মূলত দলের ভেতরের কিছু ভুল বোঝাবুঝি, আধিপত্য বিস্তার এবং স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয়হীনতার কারণেই মাঠপর্যায়ের এই উত্তেজনা এত দূর পর্যন্ত গড়িয়েছে। দ্রুত এর সমাধান না হলে দলের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
আপনার মতামত লিখুন :