মাসুদ রানা, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি।।
মোংলায় কোস্ট গার্ডের হারবারিয়া স্টেশনে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতি ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। একটি শৃঙ্খলা বাহিনীর স্টেশনে এ ধরনের ধৃষ্টতাপূর্ণ হামলাকে সচেতন মহল কেবল আইনশৃঙ্খলার অবনতি হিসেবে দেখছে না, বরং এটিকে বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলার একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।
ঘোলা পানিতে মাছ শিকার ও রাজনৈতিক উসকানি,অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কিছু সুবিধাভোগী অংশ এবং স্বার্থান্বেষী মহল 'ঘোলা পানিতে মাছ শিকার' করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ঘটনার পেছনে মিরাজ শেখের পরিবারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। অথচ বাস্তব চিত্র হলো, ওই পরিবারটিতে মাত্র তিনজন নারী সদস্য রয়েছেন। স্থানীয় অভিজ্ঞ মহলের প্রশ্ন যারা আজ পর্দার আড়াল থেকে এই পরিবারটিকে উসকানি দিয়ে মাঠে নামালো, আইনি প্রক্রিয়ায় যদি ওই নারীরা গ্রেপ্তার বা হেনস্থার শিকার হন, তখন এই উসকানিদাতারা কোথায় থাকবেন? অসহায় একটি পরিবারকে রাজনৈতিক গুটি হিসেবে ব্যবহার করার এই প্রবণতা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
সরকারকে বিপদে ফেলার দূরবর্তী চক্রান্ত বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যেখানে বারবার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিচ্ছেন, সেখানে মোংলার কিছু অতি-উৎসাহী বা অনুপ্রবেশকারী গোষ্ঠী সরকারকে বিপদে ফেলতে এ ধরনের হঠকারী কাণ্ড ঘটাচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। রাষ্ট্রীয় একটি বাহিনীর ওপর হামলা মানে প্রকারান্তরে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত করার শামিল।
সাংবাদিকদের টার্গেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কটাক্ষ এদিকে, কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে দেওয়া আনুষ্ঠানিক 'প্রেস নোট' বা বিজ্ঞপ্তির ওপর ভিত্তি করে মোংলার পেশাদার সাংবাদিকরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করায় তাদের ওপর চড়াও হয়েছে স্থানীয় কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠী। বিশেষ করে বিএনপির সমর্থক দাবিদার কিছু ব্যক্তিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব নিয়ে কটাক্ষ ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সাংবাদিকের কাজ কোনো পক্ষের হয়ে দালালি করা নয়, বরং ঘটনার সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জনগণের সামনে তুলে ধরা। কোস্ট গার্ডের প্রেস নোটের ওপর ভিত্তি করে নিউজ করায় সাংবাদিকদের কটাক্ষ করা প্রমাণ করে একটি মহল চায় না সত্য সামনে আসুক। এ ধরনের অপচেষ্টা মোংলার স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করার শামিল।
এই পরিস্থিতিতে সাংবাদিক সমাজের ঐক্য ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। কোস্ট গার্ডের মতো একটি সংবেদনশীল বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনাটি যেমন গুরুতর, তেমনি এর পেছনে কারা উসকানি দিচ্ছে এবং কারা সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে চাচ্ছে তাদের মুখোশ উন্মোচন করাও গণমাধ্যমের দায়িত্ব।
আপনার মতামত লিখুন :