তজুমদ্দিনে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট: মাঝপথেই উধাও বরাদ্দ, বিপাকে কৃষক ও চালক।


FavIcon
গ্লোবাল সংবাদ
  • প্রকাশিত : ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

মমিনুল ইসলাম, তজুমদ্দিন প্রতিনিধি।।


 ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় সরবরাহকৃত জ্বালানি তেলের (পেট্রোল,ডিজেল ও অকটেন) দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিম সংকটে রয়েছে। তজুমদ্দিন তেলের কোন পাম্প না থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরদের কাছ থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে হয়। গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় দোকানগুলোতে তেল না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে কৃষি ও পরিবহন খাত।


 ভুক্তভোগীদের অভিযোগ,উপজেলার জন্য সরবরাহকৃত তেলের ট্যাংক লরি তজুমদ্দিনে না পৌঁছে অন্য কোথাও বিক্রি বা পাচার করে দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে বোরো মৌসুম চলায় সেচ পাম্পের জন্য ডিজেলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু দোকানে গিয়ে তেল না পেয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে কৃষকদের। স্থানীয় কৃষক মহিউদ্দিন জানান, সেচ দিতে না পারলে খেত শুকিয়ে লাল হয়ে যাবে। 


দোকানে গেলে বলে তেল নেই, অথচ কালোবাজারে চড়া দামে তেল পাওয়া যাচ্ছে। আমরা এখন কী করবো বুঝতে পারছি না।" অন্যদিকে বিপাকে পরিবহন চালক ও সাধারণ মানুষ। তেল সংকটের কারণে উপজেলার অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী মোটরসাইকেল,পণ্যবাহী যানবাহন ও খেয়া নৌকার চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে।মোটরসাইকেল চালকরা জানান তজুমদ্দিনে কোন পেট্রোল পাম্প নেই দীর্ঘদিন ধরে অকটেন ও পেট্রোলের জন্য অন্য উপজেলায় গিয়ে ৬-৭ ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছেন না।


 তাদের অভিযোগ প্রতিটি উপজেলায় কমবেশি জ্বালানি সরবরাহ করা হয় কিন্তু তজুমদ্দিন উপজেলার জন্য সরকারি সরবরাহকৃত জ্বালানি কোথায়? তাদের দাবি কিছু অসাধু চক্র তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তজুমদ্দিনের বরাদ্দ বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছে। সরজমিনে তজুমদ্দিনের খুচরা দোকানগুলোতে ঘুরে দেখা যায় দোকানে কোন জ্বালানি তেল নেই, তারা জানান প্রতি সপ্তাহে তেলের লরি তজুমদ্দিনে আসলেও দীর্ঘদিন ধরে তাদেরকে কোন তেল দিচ্ছে না। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে তেল চাইলে তারা তেল দিচ্ছে না। 


স্থানীয়দের দাবি, তেলের লরি তজুমদ্দিনের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও সেগুলো তজুমদ্দিনের খুচরা বিক্রির দোকানগুলো পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না। প্রতি সপ্তাহে তজুমদ্দিনে রাতের আধারে তেলের লরি আসে কিন্তু ৭-৮ ব্যারেল তেল দোকানে দিয়ে বাকি তেল কালো বাজারে বিক্রি করেন এই "তেল পাচার" সিন্ডিকেটের পেছনে একটি প্রভাবশালী চক্র জড়িত বলে গুঞ্জন রয়েছে। তজুমদ্দিনের জন্য নির্ধারিত তেলের বরাদ্দ যাচ্ছে কোথায় আর তেলের লরি রাতের আধারে কেন আসে? সাধারণ ব্যবহারকারীরা যখন এক লিটার তেলের জন্য হাহাকার করছেন, তখন তেলের এই কৃত্রিম সংকট কেন তৈরি করা হচ্ছে তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তেল মজুত করে চড়া দামে বিক্রি করার সুযোগ খুঁজছেন। 


গত ১৩ এপ্রিল(সোমবার) রাত ১ টার পর তজুমদ্দিনের জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হাওলাদার ট্রেডার্সের তেলের লরি তজুমদ্দিন বাজারে আসলেও মঙ্গলবার সকালে ব্যবসায়ীরা তেল চাইলে তেল নেই বলে জানান। এই বিষয় জানতে চাইলে জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হাওলাদার ট্রেডার্স জানান, বোরহানউদ্দিনে জ্বালানি সরবরাহকারী লাইসেন্স না থাকায় বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সুপারিশে আসার পথে বোরহানউদ্দিন উপজেলায় কিছু তেল দেওয়া হয় বাকি তেল তজুমদ্দিনের ব্যবসায়ীদের দেওয়ার হয়। তবে বেশিরভাগ তেল পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজে দেওয়া হয়।


 বোরহানউদ্দিন তেল দেওয়ার বিষয় জানতে চাইলে বোরহানউদ্দিন উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন, জানান তেল ডিপো থেকে সরবারহ করে তজুমদ্দিনে জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কারা সাথে কি ভাবে ব্যবসা করেন তা তিনি জানেন না। তবে তিনি তজুমদ্দিনে জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানেকে তিনি বোরহানউদ্দিনে তেল দেওয়ার বিষয়ে কিছু বলেননি। জ্বালানি সরবরাহকারী আরেক প্রতিষ্ঠান সোহাগ স্টোরের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান ডিপো থেকে আগের মতো পুরো ট্যাংকার তৈল দিচ্ছে না। দুই সপ্তাহ আগে তজুমদ্দিন বাজার ও গত শুক্রবার রাতে দক্ষিণে খাসেরহাট বাজারে তারা তেল দিয়েছেন। 


কিন্তু ব্যবসায়ীদের অভিযোগ তারা তেল পায়নি। এ বিষয়ে তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম জানান, জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছেন। তেলের বরাদ্দ কেন গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ