আরজু আক্তার, হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমির মালিকানা ও দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। একপর্যায়ে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। পরে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কমিশনের মাধ্যমে বিরোধপূর্ণ জমির দাগ, পরিমাণ ও সীমানা যাচাই করে পরিমাপ করা হয়।
পরিমাপের সময় স্থানীয় বাসিন্দারাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের ভাষ্য, জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে কাগজপত্র, দাগ নম্বর ও আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের প্রত্যাশা, সঠিকভাবে সীমানা নির্ধারণ হলে দীর্ঘদিনের বিরোধের একটি আইনগত সমাধানের পথ তৈরি হবে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ‘কাগজ যার, জমি তার’—এই নীতিতেই জমির মালিকানা ও দখলের বিষয়টি নির্ধারণ হওয়া উচিত। আদালতের নির্দেশে পরিমাপ হওয়ায় প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইমরান খন্দকার অভিযোগ করেছেন, ‘অগ্রযাত্রা’ নামের একটি অনলাইন মাল্টিমিডিয়ায় তাকে নিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে দাবি করে তিনি প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
অ্যাডভোকেট ইমরান খন্দকারের দাবি, তাদের পারিবারিক সম্পত্তি যারা জবরদখল করে রেখেছেন বলে তিনি অভিযোগ করছেন, তারাই তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে বিভিন্ন অপবাদ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছেন। তিনি বলেন, তিনি পেশায় একজন আইনজীবী এবং জমি-সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে সিভিল কোর্টে মামলা চলমান রয়েছে।
তার ভাষ্য, আদালতে মামলা পরিচালনা ও আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তিনি বিষয়টি মোকাবিলা করছেন। কিন্তু তাকে ‘ভূমিদস্যু’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মানববন্ধন ও প্রচারণা চালানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।
ইমরান খন্দকার আরও দাবি করেন, আদালতের নির্দেশে কমিশন গঠন করে বিরোধপূর্ণ জমি পরিমাপ করা হয়েছে। তার দাবি, সরেজমিন পরিমাপে দেখা গেছে—যারা ওই জমি দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট দাগে তাদের নামে কোনো জমি নেই।
তবে জমির মালিকানা, দখল ও সীমানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন দাবি রয়েছে। এসব দাবির চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ এবং মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধের আইনগত নিষ্পত্তি আদালতের মাধ্যমেই হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আদালতের নির্দেশে সম্পন্ন হওয়া জমি পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণের ফলাফলকে ঘিরে এখন বিরোধের দীর্ঘসূত্রতার অবসান এবং প্রকৃত মালিকানা স্পষ্ট হওয়ার প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।
আপনার মতামত লিখুন :