ঝাঁঝালো গন্ধের পর অচেতন, ‘গণ-মনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতা’র কথা বলছেন চিকিৎসক
আরজু আক্তার, হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন জানান, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে গত ৭ সেপ্টেম্বরের ঘটনার মতোই হঠাৎ করে একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অসুস্থতা অনুভব করতে শুরু করে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে অস্থিরতাসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই একাধিক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে অচেতন হয়ে পড়ে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অর্জুন চন্দ্র দাস বলেন, প্রথমে সপ্তম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে অসুস্থতা দেখা দেয়। পরে ধাপে ধাপে অষ্টম ও দশম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থীও অসুস্থ হয়ে পড়ে। সপ্তম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের বারান্দায় হাঁটাহাঁটির সময় আতরের মতো একটি গন্ধ অনুভব করার কথা জানায়। এর কিছুক্ষণ পরই তারা অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

ঘটনার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জ্ঞান ফিরে আসে। তবে এক নারী শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে নোয়াখালী জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
একই বিদ্যালয়ে মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে পরপর এ ধরনের ঘটনা ঘটায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ ঘটনাটিকে ‘গণ-মনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতা’ বলে ধারণা করলেও বিদ্যালয়ের পরিবেশ, খাবার বা আশপাশে কোনো রাসায়নিক পদার্থ কিংবা কীটনাশকের প্রভাব রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রবিউল ইসলাম নিলয় বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি এক ধরনের ‘মাস হিস্টোরিয়া’ বা ‘গণ-মনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতা’ হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে একজন অসুস্থ হওয়ার পর আশপাশের অন্যদের মধ্যে ভীতি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারাও একই ধরনের শারীরিক উপসর্গ প্রকাশ করতে পারেন। তবে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি দল বিদ্যালয় পরিদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৭ সেপ্টেম্বর একই বিদ্যালয়ের ১৮ শিক্ষার্থী ঝাঁঝালো ধরনের গন্ধে অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরে। পরদিন উপজেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে বিদ্যালয়সংলগ্ন জমিতে কীটনাশক প্রয়োগের কারণে ওই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে জানানো হয়।
আপনার মতামত লিখুন :