মো. রেদওয়ান হোসেন, সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি :
মহান আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে যখন দেশের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে নানা আয়োজন চলছে, ঠিক সেই সময় নোয়াখালীর সুবর্ণচরের এক অসহায় শ্রমিকের জীবনের বেদনাদায়ক গল্প নীরবে চোখে আঙুল দিয়ে বাস্তবতা দেখাচ্ছে। জীবিকার তাগিদে কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণ করা দিনমজুর মো. ইব্রাহিম খলিল আজ মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের উত্তর কচ্ছপিয়া গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম খলিল ২০১৯ সালে জীবিকা নির্বাহের জন্য গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। কাজ করার সময় হঠাৎ একটি গাছ ভেঙে তার ওপর পড়ে যায়। এতে তার কোমরে মারাত্মক আঘাত লাগে এবং তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। দীর্ঘ চিকিৎসা নিয়েও প্রায় সাত বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি আর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েছেন এবং স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে একেবারেই অক্ষম।
দুর্ঘটনার আগে খলিলই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। তার উপার্জনের ওপর নির্ভর করেই স্ত্রী ও তিন সন্তানের সংসার চলত। কিন্তু দুর্ঘটনার পর কর্মক্ষমতা হারিয়ে যাওয়ায় পরিবারের আয়ের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। সন্তানদের পড়াশোনা, খাবার, চিকিৎসা- সবকিছুই এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।
খলিলের পরিবার জানায়, উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি কিছুটা সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন, এমন আশ্বাস চিকিৎসকদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। তবে এর জন্য প্রয়োজন প্রায় ৪ থেকে ৬ লাখ টাকা, যা জোগাড় করা তাদের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব। ইতোমধ্যে চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে পরিবারের সহায়-সম্বল বিক্রি হয়ে গেছে এবং তারা ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। অনেক সময় তাদের ঘরে খাবার জোটে না, এমনকি প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার সামর্থ্যও থাকে না।
বর্তমানে অসহায় এই পরিবারটি সমাজের সহৃদয় ব্যক্তিবর্গ, বিত্তবান মানুষ ও সরকারের কাছে চিকিৎসা সহায়তার জন্য আকুতি জানিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, যথাযথ চিকিৎসা পেলে ইব্রাহিম খলিল আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন এবং পরিবারের দায়িত্ব নিতে সক্ষম হবেন।
শ্রমিকের ঘামেই গড়ে ওঠে দেশের অর্থনীতি, অথচ সেই শ্রমিকই আজ অসহায় অবস্থায় মানবিক সহায়তার অপেক্ষায়। মহান আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে ইব্রাহিম খলিলের পাশে দাঁড়ানো এখন শুধু সহানুভূতি নয়, মানবিক দায়িত্বও বটে।
আপনার মতামত লিখুন :