আরজু আক্তার, হাতিয়া (নোয়াখালী) সংবাদদাতা।।
ইলিশসহ সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের প্রজনন বৃদ্ধি ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে সাগরে মাছ ধরার ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা। বুধবার (১৫ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এ সময়ে সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।
নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়নে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা মৎস্য বিভাগ ইতোমধ্যেই উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছে। মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং জেলেদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনও নিয়েছে কঠোর অবস্থান, যাতে কোনোভাবেই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন না হয়।
নিষেধাজ্ঞার খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাতিয়ার বিভিন্ন মাছঘাটে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। গভীর সাগরে থাকা জেলেরা দ্রুত তীরে ফিরে এসে তাদের ট্রলার ও জাল নিরাপদে রেখেছেন। ঘাটজুড়ে সারি সারি ট্রলার নোঙর করে রাখা হয়েছে, যা এক নজরে যেন ভাসমান নৌবহরের মতো দৃশ্য তৈরি করেছে। অনেক জেলেকে অলস না বসে জাল মেরামত ও নৌযান সংস্কারের কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনেই কোনো মাছধরা ট্রলার ঘাট থেকে সাগরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়নি—যা প্রশাসনের তৎপরতা ও জেলেদের সচেতনতারই প্রতিফলন।
হাতিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোঃ ফয়েজুর রহমান জানান, “নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। জেলেদের বিকল্প সহায়তা হিসেবে পর্যায়ক্রমে প্রত্যেককে ৭৭ কেজি করে ভিজিএফ চাল প্রদান করা হবে।”
তিনি আরও জানান, সমুদ্রসীমায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মাছ ধরা ঠেকাতে মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশ যৌথভাবে নিয়মিত টহল জোরদার করেছে। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সামগ্রিকভাবে, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ মৎস্য সম্পদ টিকিয়ে রাখতে এই নিষেধাজ্ঞাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ থাকলে এই কর্মসূচি সফল হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের।
আপনার মতামত লিখুন :