ভাঙা ঘরে টিকে থাকার লড়াই, সুবর্ণচরে এক অসহায় পরিবারের করুণ বাস্তবতা


FavIcon
গ্লোবাল সংবাদ
  • প্রকাশিত : ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

মো. রেদওয়ান হোসেন, সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি 


নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চর আমান উল্লাহ ইউনিয়নের সাতাইশ দ্রোন গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে প্রকৃতির সবুজে ঘেরা এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে একটি জরাজীর্ণ ঘর। বাইরে থেকে দেখলেই বোঝা যায় এটি কোনো বসবাসের উপযোগী আশ্রয় নয়, তবুও এই ভাঙাচোরা ঘরেই পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন আবুল কালাম ও নাসিমা বেগম।


টিনের দেয়াল ছিঁড়ে গেছে, ঘরের খুঁটিগুলো নড়বড়ে, টিনের ছাদে অসংখ্য ফাঁক দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ে ঘরের ভেতর। একটু বৃষ্টি হলেই শুরু হয় দুর্ভোগ, তখন নিজের ঘর ছেড়ে আশ্রয় নিতে হয় অন্যের বাড়িতে। নিরাপদ আশ্রয় বলতে তাদের কাছে কিছুই নেই, আছে শুধু অনিশ্চয়তা আর ভয়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী আবুল কালাম একজন প্রহরী হিসেবে কাজ করেন। মাস শেষে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার সামান্য আয় দিয়ে সংসারের চাহিদা মেটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।


সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা কিংবা পুষ্টিকর খাবার সবই যেন অধরাই থেকে যায়। পরিবারের ছোট ছোট সন্তানদের চোখে স্বপ্নের চেয়ে অভাবের ছাপই বেশি স্পষ্ট। অনেকদিন ধরে তারা মাছ মাংসের স্বাদ পায়নি। আজকের খাবার হিসেবে রয়েছে সামান্য ডাল আর পান্তা ভাত। এই বাস্তবতার কথা বলতে গিয়েই আবেগে ভেঙে পড়েন নাসিমা বেগম। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি জানান, একটি নিরাপদ ঘর থাকলে অন্তত বৃষ্টির দিনে সন্তানদের নিয়ে অন্যের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হতো না।

এটি সমাজের সেই চিত্র যেখানে দারিদ্র্য নিঃশব্দে মানুষকে গ্রাস করে। তার বিপরীতে প্রতিদিনের সংগ্রামে তারা হারিয়ে ফেলছে স্বাভাবিক জীবনের স্বপ্ন। এই অসহায় পরিবারটি সরকারের কাছে একটি ঘর নির্মাণ এবং কিছু আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। পাশাপাশি সমাজের সহৃদয় ও বিত্তবান মানুষের সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছে তারা।


একটি ছোট্ট সহায়তাই পারে বদলে দিতে এই পরিবারের জীবন। তাদের দিতে পারে মাথা গোঁজার ঠাঁই, নিরাপদ আশ্রয় এবং বেঁচে থাকার নতুন আশা।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ