কমলনগরে গৃহবধূকে কুপিয়ে জখম, শিশুকে গলাটিপে হত্যা চেষ্টা!


FavIcon
গ্লোবাল সংবাদ
  • প্রকাশিত : ১৩ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

রামগতি ও কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি।।


লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে তুচ্ছ ঘটনার জেরে এক গৃহবধূকে লোহার খন্তি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম এবং তার সাত বছর বয়সী শিশু কন্যাকে গলাটিপে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১০ জুন বিকালে উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়নের এক নং ওয়ার্ড এলাকার বাসারের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই গৃহবধূ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায় , অভিযুক্ত নারী নাজমা বেগম ও ভুক্তভোগী শাফিয়া বেগম পাশাপাশি বাড়ির বাসিন্দা। বিভিন্ন তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি হতো। ঘটনার দিন বিকালে উঠোনে কাপড় শুকানোকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত নাজমা বেগম উত্তেজিত হয়ে ঘর থেকে লোহার সাবল (স্থানীয় ভাষায় খন্তি) নিয়ে এসে শাফিয়ার মাথায় সজোরে আঘাত করে। এতে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শাফিয়া। পরে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।


এদিকে স্থানীয়রা জানান, গৃহবধূ শাফিয়াকে হাসপাতালে নিতে তারা যখন ব্যস্ত হয়ে পড়েন, ঠিক ওই সময়ে সুযোগ বুঝে নাজমা বেগম ভুক্তভোগীর শিশু কন্যাকে উঠোন থেকে টেনেহিঁচড়ে তার ঘরের ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। এ সময় রুহুল আমিন নামে এক প্রতিবেশী বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত ঘরে ঢুকে শিশুটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।


ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিবেশী রুহুল আমিন ও নয়ন আক্তার জানান, তারা বাড়ির কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখেন শাফিয়া বেগম রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন এবং নাজমার হাতে লোহার খন্তি। একপর্যায়ে নাজমা তার ঘরে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। রুহুল আমিন আরও জানান, রক্তাক্ত শাফিয়াকে নিয়ে সবাই যখন ব্যস্ত, তখন নাজমা ভুক্তভোগী শাফিয়ার সাত বছরের শিশু কন্যাকে উঠান থেকে জোরপূর্বক তার ঘরের মধ্যে নিয়ে গিয়ে গলাটিপে হত্যার চেষ্টা করছিল। তারা সময়মতো না দেখলে শিশুটিকে হয়তো বাঁচানো যেত না।


আহত গৃহবধূর স্বামী ইটভাটা শ্রমিক আবুল কাশেম জানান, তার স্ত্রীর মাথায় ৮টি সেলাই লেগেছে । গতকাল সে তিনবার স্মৃতিশক্তি হারিয়েছে। ডাক্তার বলেছেন উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় নিয়ে যেতে। তিনি গরিব অসহায় মানুষ, দিন এনে দিন খান। এখন তার পক্ষে স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি অভিযুক্ত নাজমা বেগমের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করেন।


অভিযুক্ত নাজমা বেগম এবং তার স্বামী আনোয়ারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। বাড়িতে গিয়েও ঘরের দরজাতে তালা ঝুলতে দেখা গেছে।


কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল আলম জানান, এই বিষয়ে কেউ কিছু জানায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ