আবুল হোসেন, রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি।।
দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময়েরও পর নিজ জন্মভূমি গোয়ালন্দে ফিরলেন গোয়ালন্দ উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও গোয়ালন্দ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. ফরিদ দেওয়ান। তার এ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাকে জানানো হয় উষ্ণ ও জমকালো সংবর্ধনা।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছালে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ফুলের তোড়া, ব্যানার-ফেস্টুন ও স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান। এসময় ঘাট এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়। দীর্ঘদিন পর প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে অনেক নেতাকর্মী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
পরে সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাকে সড়ক পথে গোয়ালন্দ বাজারে অবস্থিত বিএনপির কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থানের পর পুনরায় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে তাকে গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে পূর্বনির্ধারিত সংবর্ধনা মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছিল।
গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল, মহিলা দলের নেতাকর্মীরা আবারও ফুল দিয়ে ফরিদ দেওয়ানকে শুভেচ্ছা জানান। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ফরিদ দেওয়ান তার বক্তব্যে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান এবং অতীতের মতই জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সুলতান নূর ইসলাম মুন্নু মোল্লা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বাবলু, সাবেক সদস্য সচিব মো. নাজিরুল ইসলাম তিতাস, রাজবাড়ী জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুরাদ আল রেজা, গোয়ালন্দ উপজেলা যুবদলের সভাপতি মো : ফারুক দেওয়ান, গোয়ালন্দ পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মো. দেলোয়ার হোসেন মন্ডল দেলো এবং উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল হাসান মিঠুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সমগ্র আয়োজনজুড়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাস প্রমাণ করে, দীর্ঘ সময় পর হলেও ফরিদ দেওয়ানের প্রতি তৃণমূলের ভালোবাসা ও সমর্থন অটুট রয়েছে। সংবর্ধনা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মো. ফরিদ দেওয়ান বলেন, তিনি রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, আমি একটি মাদকমুক্ত, সুন্দর ও সুস্থ গোয়ালন্দ গড়ে তুলতে কাজ করতে চাই। মাদকের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান হবে জিরো টলারেন্স।
গোয়ালন্দ পৌরসভায় সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে তার নাম আলোচনায় থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার নির্বাচন করার আগ্রহ রয়েছে। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলেন, দল যদি আমাকে অনুমতি দেয়, তাহলে সকল নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়েই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।
আপনার মতামত লিখুন :