মাসুদ রানা, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি
মোংলায় পারিবারিক কলহ ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে মোঃ মিরাজুল ইসলাম (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ (বৃহস্পতিবার ) রাত আনুমানিক ৯ টার সময় মোংলা থানার চিলা ইউনিয়নের দক্ষিণ চিলা গ্রামে চিনি ব্রিজ সংলগ্নে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলে মোঃ সাব্বির চৌধুরী (২২) বাদী হয়ে ১৪ আগস্ট (শুক্রবার) মোংলা থানায় একই এলাকার রঞ্জিদা বেগম (৫৪), সাজমুল খন্দকার (২৪) এবং নাজমুল খন্দকার (৩০)-এর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সাব্বির চৌধুরীর বাবা আহত মিরাজুল ইসলাম।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিবাদের জের ধরের সাব্বির ও তার মা নেহারুন বেগমকে মারধর ও হুমকি-ধামকি দিয়ে বাড়িছাড়া করে রেখেছিল বিবাদীরা। এদের বিরুদ্বে ২৪ সালের ১৪ এপ্রিল তাদের নামেও থানায় মারামারির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন সাব্বির মা নেহারুন বেগম।দীর্ঘ ১ বছর ধরে সাব্বির তাদের ভয়ে এলাকা স্ত্রী সহ বাড়িছাড়া । সাব্বির তাদের ভয়ে বর্তমানে মোংলা পৌর শহরে বসবাস করেন।
তবে সাব্বিরের বাবা মিরাজুল ও তার মা এলাকাতেই নিজেদের গ্রামের বাড়িতে থাকেন । রঞ্জিদা বেগম মিরাজুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী। রঞ্জিদা বেগমের আগের ঘরের সন্তান সাজমুল ও নাজমুল।
গত বৃহস্পতিবার রাতে মিরাজুল ইসলাম স্থানীয় চায়ের দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে, বাড়ির সামনে পৌঁছালে বিবাদীরা তাকে একা পেয়ে পথরোধ করে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা তাকে এলোপাথাড়ি কিল, ঘুষি, লাথি মারে এবং লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। একপর্যায়ে সাজমুল খন্দকার তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো দেশীয় অস্র দিয়ে মাথায় কোপ দিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে।
মিরাজুল ইসলামের আর্তচিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে আসামীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় ও স্বজনদের সহায়তায় জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় ।কর্তব্যরত চিকিৎসক মিরাজুলের মাথায় কয়েটি সেলাই সহ চিকিৎসা সেবা দেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ শাস্তির দাবি জানান।
মোংলা থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, মারামারির ঘটনার একটি অভিযোগ পেয়েছি তদন্তে সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানায় থানার এ কর্মকর্তা।
আপনার মতামত লিখুন :