এ আর আজাদ সোহেল, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি।।
বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনার রেশ ধরে নোয়াখালীতে জেলা ছাত্রদল নেতাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক ব্যতিক্রমী আয়োজন আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল প্রীতি ফুটবল ম্যাচ।
বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় জেলা শহর মাইজদীর উজ্জ্বলপুর গ্রামের একটি 'টার্ফ' মাঠে এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।
হার-জিতের ঊর্ধ্বে উঠে সম্প্রীতির বার্তা ছড়ানো এই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দলের খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সদর উপজেলা, নোয়াখালী শহর ও নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
টানটান উত্তেজনায় ঠাসা ও তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচটিতে শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়রা নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। দুই শিবিরে বিভক্ত দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। মাঠের লড়াই ও দর্শকদের উল্লাস-উদ্বেগ মিলিয়ে পুরো টার্ফ জুড়েই ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হওয়ায় দুই দলের সমর্থকরাই সমপরিমাণ আনন্দ নিয়ে মাঠ ছাড়েন।
ব্যতিক্রমী ও সৌহার্দ্যপূর্ণ এই আয়োজনের জন্য দর্শকরা ছাত্রদল নেতাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আগামীতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার দাবি জানান।
খেলা শেষে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল বলেন, বিশ্বকাপকে ঘিরে দেশের ফুটবল প্রেমীরা প্রধানত ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। অনেক সময় এই উন্মাদনা থেকে বিভিন্ন এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা ও সংঘাতের সৃষ্টি হয়। আমরা এই প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমে বার্তা দিতে চেয়েছি যে খেলায় প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু দিনশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশি। আমাদের মধ্যে যেন সম্প্রীতি বজায় থাকে। আমরা প্রত্যাশা করি, আগামীতে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশ নেবে এবং সেদিন আমরা কোনো শিবিরে বিভক্ত না হয়ে সবাই একসাথে লাল-সবুজের পক্ষে উল্লাস করব।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রায়হান বলেন, তরুণ ও কিশোর সমাজ খেলাধুলার মধ্যে থাকলে সব ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে পারে। খেলাধুলা যেমন শরীর ভালো রাখে, তেমনি মনকেও প্রফুল্ল রাখে। বর্তমানে আমাদের অনেক তরুণ মাদক, কিশোর গ্যাং ও ইভটিজিংয়ের মতো সামাজিক ব্যাধিতে জড়িয়ে পড়ছে। আমরা এই ম্যাচের মাধ্যমে বার্তা দিতে চাই তারা যেন অপরাধের পথ পরিহার করে খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটায় এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ
গভীর রাতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি দেখতে বিপুল সংখ্যক দর্শক সমাগম ঘটে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের এমন সুস্থ বিনোদনমূলক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় ক্রীড়ামোদিরা।
আপনার মতামত লিখুন :