সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।।
সাতক্ষীরায় স্ত্রী-সন্তান ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে দিনমজুর এক ব্যক্তিতে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন করাসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বাড়ি থেতে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দুপুরে (২৭ জুন) সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সদরের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মো. সইলদ্দীন মোড়লের ছেলে মো, ফজলুর রহমান নিজের স্ত্রী ও সন্তানদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, কমর্রে সুবাদে তাকে প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। এই সুযোগে তার স্ত্রী মোছা, রাশিদা খাতুন অন্য এক পুরুষের সাথে অবৈধ সর্ম্পকে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানার পর প্রতিবাদ করলে, স্ত্রী রাশিদা খাতুন, ছেলে মাজাফফার হোসেন, মেয়ে মোছাঃ মিম ও পুত্রবধূ মাজাফফারের স্ত্রী তানিয়া খাতুন পরষ্পর যোগসাজে তার (ফজলুর রহমান) উপর শারীরিক ও মানষিক নির্যাত শুরু করে। ইতিপূর্বে সরকারি চাকুরীতে কর্মরত ছেলে মোজাফ্ফার ছুটিতে বাড়ীতে এসে তাকে হত্যার উদ্দ্যেশ্য লোহার কোদাল দিয়ে মাথায় আঘাত করে। পরে কোদাল দিয়ে তার বাম পায়ে আঘাত করে হাড় ভাঙ্গা জখম করে। এঘটনার পর থেকে বিগত দেড় বছর যাবত তিনি পঙ্গু অবস্থায় ছিলেন। এসময় তিনি কোন কাজ কর্ম করতে পারেনি।
ফজলুর রহমান আরো বলেন, উল্লেখিত ঘঠনাকে কেন্দ্র করে ইতিপূর্বে তার স্ত্রী, পুত্র, কন্যা ও পুত্রবধু তাকে মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বর জখম করে। এসময় তার বড় ছেলে মো. রিপন হোসেন তাদের হাত থেকে তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে গেলে তারা রিপনকেও এলোপাতাড়ি কিলঘুষি ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারপিট করে শীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করে।
এসময় তারা তাকে (ফজলু) মারপিট করে হাতে ধারাল দা উচু করে প্রাণনাশের হুমকি ধামকি দিয়ে বসত ঘর হতে তাড়িয়ে দেয়। উপায় না পেয়ে বাড়ির গোয়াল ঘরে গিয়ে তিনি আশ্রয় নেন। এসময় তার স্ত্রী, পুত্র, কন্যা ও পুত্রবধুরা ঘর থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নেয় ও জমিতে থাকা গাছ গাছালি কেটে বিক্রি করে তারা জোর পূর্বক ভোগ করে। পরে গোয়াল ঘর থেকেও তাকে তাড়িয়ে দিলে তিনি সদর থানায় একটি অভিযোগ দেন। পুলিশ দুইপক্ষকে ডেকে মিমাংশ করে দিয়ে তাকে (ফজলুর) বসত ঘরে তুলে দেয়।
তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, আমাকে ঘরে তুলে দেওয়ার কিছুদিন পর আমার স্ত্রী গংরা সদর থানা এবং স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের মিমাংশার শর্ত ভঙ্গপূর্বক আমাকে পুনরায় মারপিট করে ও প্রাণনামের হুমকি ধামকি দিয়ে শেষ আশ্রয়স্থল গোয়ালঘর থেকে ফের আমাকে বের করে দেয়।
বর্তমানে আমি অসহায় অবস্থায় জীবন জাপন করছি। স্ত্রী-সন্তানদের ভয়ে আমি বাড়ীতে যেতে পারছি না। উপরন্ত তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বদনাম রটিয়ে আমার মান সম্মান নষ্ট করছে এবং প্রাণনাদের হুমকি ধামকি দিচ্ছে। আমার ছোট ছেলে মাজাফফার হোসেন সরকারি চাকুরির প্রভাব খাটিয়ে আমাকে মারপিট করাসহ হয়রানি অব্যহত রেখেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বড় ছেলে রিপন হোসেন বলেন, আমার মা, ছোট ভাই, বোন, ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী তাদের কুকর্ম ঢাকার জন্য আমার পিতাকে দির্ঘদিন যাবত শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন করাসহ ভিটাবাড়ী হতে উচ্ছেদ করে। ঘটনার সময় আমি পিতাকে উদ্ধার করতে গেলে তারা আমাকেও বেধড়োক মারপিট করে।
ফজলুর রহমান ন্যায় বিচার দাবি করে বলেন, ঘটনার বিষয়টি সুষ্ট তদন্তপূর্বক তিনি যাতে স্ত্রী-সন্তান ও পুত্রবধূর নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে নিজের বাড়িতে শান্তিপূর্ন পরিবেশে বসবাস করতে পারেন তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
আপনার মতামত লিখুন :