নাটোরের নলডাঙ্গায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির ফল প্রকাশ নিয়ে সমালোচনা ও নিয়োগ বাতিলের দাবি


FavIcon
গ্লোবাল সংবাদ
  • প্রকাশিত : ১৪ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

নাটোর জেলা প্রতিনিধি।।


নাটোরের নলডাঙ্গায় সম্প্রতি ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬’ এর সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিজ্ঞ ও যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে স্বজনপ্রীতি ও সুপারিশের ভিত্তিতে তালিকা প্রস্তুত করার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি নেতা এস.এম সান্টু।


গত কয়েক দিন আগে উপজেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ‘ইউএনও নলডাঙ্গা নাটোর পেজ’-এ পরিমার্জিত ক্যাপশনসহ নির্বাচিতদের এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকা প্রকাশের পরপরই তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নলডাঙ্গার বিভিন্ন মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।


প্রকাশিত তালিকাকে ঘিরে ফেসইবুক ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সাধারণ প্রার্থী ও সচেতন নাগরিকরা নানা মন্তব্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মো. শাকিল খান তার মন্তব্যে লিখেছেন, "এখানে আমার পরিচিত কয়েক জনকেই তো দেখছি হয়েছে, তাদের তো তেমন যোগ্যতা ছিলো না। এটা নিশ্চিত যে তাদের সুপারিশে হয়েছে। এমন কি আমার ওয়ার্ডেও যাকে নিয়েছে তাকে সুপারিশে নিয়েছে। পরীক্ষার নামে এগুলো প্রহসনের কোনো প্রয়োজন ছিলো না। আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম।"


এস এম শাহিন রেজা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কি আর বলব ভাই সার্কুলারে উল্লেখ ছিল সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকলে তাদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আমার দুইটা শুমারি করা ছিল এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা ইনশাল্লাহ সর্বোচ্চ আছে। তারপরেও হলো না। যা দেখলাম অনভিজ্ঞ এবং সুপারিশকৃত লোকদের হয়েছে। ভাইবাতে ৫টি প্রশ্ন করেছিল ৫টিরই উত্তর দিয়েছি। তারপরও হলো না।"


মো. নাঈম আলী লিখেছেন, "এখানে কোনো মেধা তালিকায় হয় নি। যা হয়েছে বাপ চাচা মামা খালুদের অবদানে হইছে। ধন্যবাদ।" সাফি খান লিখেছেন, "এত নাটক হলো শেষ পর্যন্ত।" ফারিহা নুর সংক্ষেপে লিখেছেন, "ভুয়া ভুয়া ভুয়া।" আঃ সালাম মন্তব্য করেন, "মেধাবীদের বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।"


এছাড়াও ফরিদ হোসাইন লিখেছেন, "অভিজ্ঞতা যাদের ছিল তাদের তো অগ্রাধিকার ছিল। কিন্তু মাধনগর ইউনিয়নের একজনও অভিজ্ঞতা সম্পন্নদের হলো না। ফ্রেশাররা নির্বাচিত হলো দেখে কষ্ট লাগলো।"


এসব নানা নেতিবাচক মন্তব্যে ভরপুর হয়ে ওঠে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পোস্টের কমেন্ট বক্স। সাধারণ চাকরিপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, নিয়োগের ক্ষেত্রে সার্কুলারে উল্লিখিত অভিজ্ঞতা ও সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্তগুলো সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।


অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে অনভিজ্ঞ ও সুপারিশপ্রাপ্তদের অগ্রাধিকার দেওয়ায় নলডাঙ্গায় এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নিয়োগ বাতিলের দাবি জোরালো করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা এস.এম সান্টু।


সার্বিক বিষয়ে নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আল এমরান খান জানান, "নীতিমালার আলোকেই মেধা ও অভিজ্ঞদের মূল্যায়ন করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে যাচাই-বাছাই করে আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"


ফ্যামিলি কার্ড শুমারির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও মেধার সঠিক মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন নলডাঙ্গার সচেতন নাগরিক ও ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসের পরও, জনমনে বিরাজমান অসন্তোষ দূর করতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করাই এখন সময়ের দাবি।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ