সরকারি জায়গা দখলমুক্তের পরও রাস্তার মুখে দোকান, আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ


FavIcon
গ্লোবাল সংবাদ
  • প্রকাশিত : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

মো. রেদওয়ান হোসেন, সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: 


নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবিলী ইউনিয়নের দক্ষিণ চরবাগ্যা গ্রামের ৫নং ওয়ার্ডের ১০ এর দীঘি বাজারে (হানিফ চেয়ারম্যান বাজার) সরকারি জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নেছার আহমদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার মুখ দখল করে দোকান বসিয়ে ব্যবসা করায় একটি সংযোগ সড়কের চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ী, পথচারীসহ আশপাশের কয়েকশ পরিবার ভোগান্তিতে পড়েছে।


ঘটনাস্থলটি সেই ১০ এর বাজার, যেখানে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত জনসাধারণের ব্যবহারের শৌচাগার ভেঙে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের নামে ঘর নির্মাণের অভিযোগে শুক্রবার নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহানের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সরকারি জায়গায় নির্মিত স্থাপনাগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়।


তবে উচ্ছেদ করা স্থাপনার সামনেই রাস্তার মুখ দখল করে থাকা নেছার আহমদের দোকান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ১২/১৩ বছর ধরে ওই জায়গায় দোকান বসিয়ে ব্যবসা করছেন তিনি। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দীর্ঘদিন বিষয়টি নিয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে পারেননি বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। সূত্র জানায়, সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চরজুবিলি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হানিফ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তিনি দখলদারিত্বের কাজ করেছেন বলে।


সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের একটি রাস্তার মুখে দোকানটি এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে যে পূর্ব দিক থেকে পশ্চিমমুখী একটি গ্রামীণ সংযোগ সড়কের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ওই সড়ক দিয়ে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও মসজিদে প্রতিদিন কয়েকশ মানুষ যাতায়াত করেন। এছাড়া নেছার আহমদের বাড়ির পাশের সরকারি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার প্রায় ৬ ফুট প্রশস্ত একটি ড্রেনের অংশ ভরাট করে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এতে বর্ষা মৌসুমে আশপাশের বাড়িঘর ও কৃষিজমিতে পানি জমে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।


অভিযোগের বিষয়ে নেছার আহমদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। পরে তাঁর ছেলেরা জানান, অনেকেই খাস জায়গায় দোকানঘর তুলে ব্যবসা করেন। তাই খালের পাশের হওয়ায় ব্যবসার জন্য দোকান করা হয়েছে। ড্রেন সংলগ্ন জায়গা তাদের নিজস্ব বলেও দাবি করেন তারা। এসব অভিযোগকে একটি পক্ষের ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে তারা বলেন, সরকার জায়গাগুলো প্রয়োজন মনে করলে নিয়ে গেলে তাঁদের আপত্তি নেই।


এলাকাবাসীর দাবি, একই বাজারে সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগে একটি স্থাপনা উচ্ছেদের পর রাস্তার জায়গা ও পানি নিষ্কাশনের পথ দখলের বিষয়টিও প্রশাসনের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হোক। অবৈধ দখল প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ