নোয়াখালীতে বিএনপির জন্য রাজপথে রক্ত, কারাবরণ করা জীবন্ত কিংবদন্তি আবদুল করিম মুক্তা


FavIcon
গ্লোবাল সংবাদ
  • প্রকাশিত : ০৯ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

‎এ আর আজাদ সোহেল, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি।।


‎শৈশব থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বুকে লালন করে সাড়ে চার দশক ধরে রাজনীতির মাঠে এক লড়াকু নাম মোঃ আবদুল করিম মুক্তা। আগামী পৌরসভার নির্বাচনে তৃণমুলের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন এ নেতা। ছাত্রদলের সাবেক এ ছাত্রনেতা নিজ দলের কর্মী ছাড়াও সর্বদলের ব্যক্তিদের কাছে গ্রহনযোগ্য ও  জননন্দিত নেতা।

‎নোয়াখালী জেলা ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক এই শীর্ষ নেতা দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের দুঃশাসন ও সর্বশেষ চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে রেখেছেন অগ্রণী ভূমিকা। দল ও গণতন্ত্রের জন্য রাজপথে রক্ত, ঘাম ও কারানির্যাতন বরণ করা এই নেতা নোয়াখালীর রাজনীতিতে এক জীবন্ত কিংবদন্তি। ​

‎​১৯৮৪ সালে বর্তমান জেলা বিএনপির আহবায়ক  মোঃ মাহবুব আলমগীর আলোর হাত ধরে ছাত্রদলে যোগ দেন আবদুল করিম মুক্তা। এরপর ১৯৮৭ সালে হরিনারায়ণপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি এবং ১৯৮৮ সালে তৎকালীন নোয়াখালী পৌরসভার  ২নং ওয়ার্ড (বর্তমান ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ড) ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন।

‎​১৯৮৮ সালে নোয়াখালীতে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে প্রথম কারাবরণ করেন তিনি। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে গিয়ে নোয়াখালী কলেজ ক্যাম্পাস থেকে পুনরায় গ্রেফতার হন। ১৯৯২ সালে নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের প্রত্যক্ষ ভোটে তিনি ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত পর পর তিনটি ছাত্র সংসদ নির্বাচনে (জসিম-হারুন, পলাশ-রহিম এবং নিপু-দিদার পরিষদ) পূর্ণ প্যানেলে জয়যুক্ত করতে মুখ্য সাংগঠনিক ভূমিকা পালন করেন মুক্তা।

‎​

‎​১৯৯৬ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতার বাইরে, তখন থেকেই শুরু হয় আবদুল করিম মুক্তার ওপর রাজনৈতিক জুলুম। তৎকালীন আওয়ামী লীগ প্রার্থীর দায়ের করা মামলায় ১নং আসামি হয়ে গ্রেফতার হন। ১৯৯৭ সালে নোয়াখালী কারাগারে থাকাকালীন তার ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। দীর্ঘ ৪ মাস ২৩ দিন সাড়ে ৯ কেজি ওজনের ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে তাকে রাখা হয় কনডেম সেলে। ২০০১ সালে বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় আসার ১ মাস পর তিনি জেল থেকে মুক্তি পান।

‎​বিগত ১৫ বছরের আওয়ামী দুঃশাসনে তার ওপর নেমে আসে নির্যাতনের স্টিমরোলার। তিনি মোট ৪১টি রাজনৈতিক মামলার শিকার হন, যার মধ্যে ২৭টি মামলাতেই তিনি ছিলেন ১ নম্বর আসামি। রাজনৈতিক জীবনে তিনি সর্বমোট ১৩ বার কারাবরণ করেন।

‎​

‎​আওয়ামী লীগের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে একাধিকবার ক্রসফায়ারের মুখোমুখি হতে হয়েছিল এই ত্যাগী নেতাকে। একবার রাজপথ থেকে গ্রেফতারের পর গণমাধ্যমের উপস্থিতির কারণে ক্রসফায়ার করতে ব্যর্থ হয়ে পুলিশ তাকে ২৩টি মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠায়। পরবর্তীতে জামিনে মুক্তির সময় নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত ৭ খুনের তৎকালীন র‍্যাব-১১ কমান্ডার মেজর তারেক সাঈদ তাকে জেলগেট থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। তৎকালীন জেলার বজলুর রশীদের বুদ্ধিমত্তা এবং পরবর্তীতে আইনি কৌশলে তিনি সে যাত্রা রক্ষা পান।

‎​এরপর তৎকালীন পুলিশ সুপার তাকে রাজনীতি ছাড়াসহ ৪টি কঠিন শর্ত দিলে, তিনি নিজের জন্মদাত্রী মা ও স্ত্রীর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পাসপোর্ট জমা দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান এবং দুই বছর পর পুনরায় রাজপথে ফিরে আসেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তার সরকারি শিক্ষিকা স্ত্রীকেও শাস্তিমূলক বদলি করা হয়।

‎​

‎​সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনেও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন আবদুল করিম মুক্তা। গত ১৮ই জুলাই ২০২৪ তারিখে রাজপথ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ৪ঠা আগস্ট তাকে রিমান্ডে নিয়ে চালানো হয় মধ্যযুগীয় বর্বরতা। নাক দিয়ে পানি ঢালার মতো পাশবিক নির্যাতনের কারণে ফুসফুসে ইনফেকশন, পানি জমা এবং কিডনির জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে তিনি দীর্ঘদিন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েছেন । অবশেষে স্বৈরাচার পতনের পর গত ৭ই আগস্ট ২০২৪ তারিখে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন।

‎দীর্ঘ এই রাজনৈতিক সততা ও ত্যাগের কারণে বিএনপির চেয়ারপারসন, আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ব্যক্তিগতভাবে তাকে চিনতেন এবং স্নেহ করে "আমার নোয়াখালীর পাগল" বলে ডাকতেন।

‎ব্যবসায়ী সমাজেও রয়েছে তার তুমুল জনপ্রিয়তা। ২০০৪ সাল থেকে আজ অব্দি নোয়াখালী মিউনিসিপ্যাল মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এছাড়া দীর্ঘদিন নোয়াখালী পৌর বাজারের সাধারণ সম্পাদক, ১৮৪৯ ট্রেড  ইউনিয়ন নোয়াখালী জেলার সভাপতি ছিলাম, জাতীয়তাবাদী মাইক্রোবাস শ্রমিকের সভাপতি ছিলাম।

‎সাক্ষাৎকার শেষে মুক্তা আবেগ জড়িত কন্ঠে বলেন, ​জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শহীদ জিয়ার আদর্শ এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা বাস্তবায়নে কাজ করে যেতে চাই। এই ত্যাগী জননেতা মোঃ আবদুল করিম মুক্তা দেশনায়ক তারেক রহমানের উক্তির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে  বলেন, আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ