আরিফুল ইসলাম আরিফ, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কলেজ প্রভাষকের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে তিনটি মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ, ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করল এলজিইডি। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর ইউনিয়নে এলজিইডির সরকারি রাস্তার পাশের তিনটি মেহগনি গাছ বেআইনিভাবে কাটার অভিযোগ উঠেছে বড়হর কলেজের প্রভাষক হাবিব তালুকদারের বিরুদ্ধে। শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে বড়হর ইউনিয়নের একটি সরকারি সড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি রাস্তার পাশে থাকা মেহগনি গাছগুলো কাটার কাজ শুরু হলে স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি দেখতে পান। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চান। এ সময় গাছ কাটার বৈধ অনুমতি রয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দেয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে বড়হর কলেজের প্রভাষক হাবিব তালুকদার দাবি করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অনুমতি নিয়েই তিনি গাছগুলো কাটছেন। তবে তার দাবির পক্ষে ঘটনাস্থলে কোনো লিখিত অনুমতিপত্র বা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে স্থানীয়রা জানান।
এদিকে, অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকরা গাছ কাটার বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে হাবিব তালুকদার তার ভাই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক আব্দুল আলিম তালুকদারের পরিচয় ব্যবহার করে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে হাবিব তালুকদারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
গাছ কাটার খবর পেয়ে স্থানীয় এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পারে। পরে স্থানীয় এলজিইডি প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের নির্দেশে এলজিইডির সুপারভাইজার মেহেদি হাসান নান্নু ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটার কাজ বন্ধ করে দেন। এতে আরও গাছ কাটা থেকে বিরত থাকে সংশ্লিষ্টরা।
এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি রাস্তার পাশে থাকা গাছ সরকারি সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত। এসব গাছ কাটার ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও প্রক্রিয়া ছাড়া সরকারি গাছ কাটার সুযোগ নেই। সাধারণত সরকারি গাছ অপসারণ বা বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং বিধি অনুযায়ী টেন্ডারসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
এলজিইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি রাস্তার পাশের গাছ কাটার ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)- রায়হানুল ইসলামের এর বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে গাছ কাটার বিষয়ে তিনি আদৌ কোনো অনুমতি দিয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি রাস্তার পাশের গাছ কাটার ঘটনায় সঠিক তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আপনার মতামত লিখুন :