লাকসামে মশার যন্ত্রনায় মানুষ অতিষ্ট, ডেঙ্গু আতঙ্ক।


FavIcon
গ্লোবাল সংবাদ
  • প্রকাশিত : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

দেবব্রত পাল বাপ্পী, লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি 


কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার কয়েকলাখ মানুষ অতিষ্ট শিশু দানব মশার বেপরোয়া তান্ডবে। শহর থেকে গ্রামঞ্চলের অলিগলি,বাসা, অফিস সব জায়গাতেই বেড়েছে মশার যন্ত্রণা। মশার অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে তাদের দৈনন্দিন খরচের তালিকায় যোগ হয়েছে কয়েলসহ বিভিন্ন মশার ঔষধ কেনার খরচ। দেশব্যাপী অদৃশ্য ভাইরাস করোনা, চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু আতংকের জের ধরে অবশেষে এখনও টনক নড়েনি স্থানীয় প্রশাসনের। গত ২/৩ বছর যাবত লাকসাম,পৌরকর্তৃপক্ষের তত্বাবধানে চলছিলো মশা নিধনে পাড়া মহল্লায় ঔষধ ছিটানোর কাজ। এখন তা আজ থমকে দাঁড়িয়েছে লাকসাম পৌরএলাকায় মশা নিধোন কার্যক্রম। তবে এ অঞ্চলের শিশুদানব মশার তান্ডবে ডেঙ্গু, চিকুনগোনিয়া, ম্যালেরিয়া সহ অন্যান্য জটিলরোগ মারাত্মক আকার ধারন করেছে। বিশেষ করে ভেজাল খাবার, নোংরা পরিবেশ, পরিবেশ দূষন সহ নানাহ কারণে এ রোগগুলো ছড়াচ্ছে বলে অভিমত সকল শ্রেণি পেশার মানুষের। বর্তমানে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীর প্রভাব বিস্তার করছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, মশক নিধনে জেলা দক্ষিনাঞ্চলের পৌরসভাগুলোর কর্তৃপক্ষ গত ২ বছর পূর্বে পৌরশহরের পাড়া, মহল্লা এবং নালাগুলোতে মশার ওষুধ ছিটালেও চলতি বছর ওই প্রকল্পটি আবার শুরু হয়। শিশু দানব মশার অত্যাচারে অনেকটাই বিপাকে পড়তে হচ্ছে সকল শ্রেনী পেশার মানুষদের। শিশুধানব মশার কামড়ে অতিষ্ঠ জেলা দক্ষিনাঞ্চলের ৫টি উপজেলাবাসী। নানাহ শিকারে পড়ে উপজেলা ৫টির নিম্নাঞ্চলসহ পৌরশহরগুলোর বিভিন্ন এলাকার অভিজাত ও বানিজ্যিক এলাকায় মশার উপদ্রব মারাত্মক বেড়েছে। এলাকার প্রত্যেক বাড়ীতে ভাইরাস জ্বরের প্রার্দুভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় নানাহ ভাইরাস রোগের কথাবার্তা উঠেছে মানুষের মাঝে। বিশেষ করে গত ১৫ দিনে জেলার সর্বত্র ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

অপর দিকে পৌরবাসীরা বলছেন, শীত কমার শেষ মূহূর্তে অন্য সময়ের চেয়ে শিশুধানব মশার উপদ্রব মারাত্মক বেড়েছে। দিনের বেলায়ও মশার হাত থেকে কারো যেন রেহাই নেই। অন্যদিকে সন্ধ্যা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দরজা-জানালা বন্ধ করে ঘর বন্ধি হিসাবে থাকতে হচ্ছে মানুষদের। অথচ জেলাদক্ষিনাঞ্চলের ৫টি উপজেলা ও ৩টি পৌর কতৃপক্ষ বসন্তের আগমনী বার্তায় মশক নিধনে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় দায়িত্ব অতিমুখ্য হলেও এখনো এর কার্যকর কোন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছেনা ফলে এ অঞ্চলে দিনে রাতে শিশুধানব মশার উপদ্রব শুধু বাড়ছেই।

স্থানীয় সুত্র জানায়, বিগত দিনে পৌরসভার মশক নিধন কর্মীরা শুধুমাত্র রাস্তার পাশেই ওষুধ ছিটিয়ে কার্যক্রম শেষ করেছে অথচ ঝোপ-ঝাড়, অলিগলি কিংবা বাড়ির পাশে নিচু জায়গায় সামান্যতম ওষুধ ছিটাতেও তারা ছিল নারাজ। সে ওষুধে কোনো কাজ হয়েছে কিনা মশার ভয়াবহ তৎপরতা দেখে বোঝা যায়নি। গত কয়দিন ধরে মশার উৎপাত শুধু বাড়ছেই।‘যন্ত্রনায় আছিরে ভাই’! তবুও শুধু পৌর কর্তৃপক্ষের দোষ দিতে নারাজ পৌরশহরের বাসিন্দারা। পৌরশহরের আনাছে-কানাচে, ডাকাতিয়া নদীসহ সংযোগ খালের পাড় অপরিচ্ছন্ন অসংখ্য ডোবা-নালার মশা নিধন একটি কঠিন কাজ। বিশেষ করে গত ২/৩ বছর পূর্বে প্রত্যেক পৌরশহরে ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭টি ফিগার মেশিনে ও ৮টি ম্যানুয়েল মেশিনসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করেছে ওইসব পৌর কর্তৃপক্ষ। ওই সময় ৫ জন সুপার ভাইজারের তত্ত্বাবধানে ১২জন প্রশিক্ষিত কর্মীর ৬টি টিম করে পৌরশহরগুলোতে মশক নিধন কার্যক্রমের প্রকল্প হাতে নেয়া এবং ‘লার্ভিসাইডিং’ (লার্ভা নিধন) ও ‘ফগিং’ (উড়ন্ত মশা নিধন) কার্যক্রম চালানো হয়েছিলো। মশা মারতে দু’ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়। লার্ভা নিধনে ব্যবহার করা হয় ‘লার্ভিসাইডিং’ আর উড়ন্ত মশা নিধনে ‘অ্যাডাল্টিসাইড’ ওষুধ ব্যবহার করার কথা থাকলেও তা অনেকটাই অনুপস্থিত বলে নানাহ কথা-বার্তা উঠেছে এলাকার জনমনে। মশা নিধনে বাজারে নানা রকম মশার কয়েল পাওয়া গেলেও অনেক ব্রান্ডেই ভেজাল। কয়েল জালানোর পর জলন্ত কয়েলের উপর মশাকে নৃত্য করতে দেখা যায়।

লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ নাজিয়া বিনতে আলম জানান, লাকসাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার নার্গিস সুলতানা মশার ঔষধ ছিটানোর বিষয় অবগত আছেন। তিনি এই বিষয়ে জরুরী প্রদক্ষেপ নিবেন। মশা নিধোনের ব্যাপাটি সম্পূর্ণ পৌর প্রশাসকের। আমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত এক মাসে ৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন জ¦র যদি কাহারো ৩দিন হয়ে থাকে তাহলে চিকিৎসকের কাছে স্মরনাপন্ন হতে হবে।

এ ব্যাপারে লাকসাম পৌরসভা মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোহাম্মদ আল-ইমরান বলেন, বর্তমানে সারা বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে গেছে। লাকসাম পৌরসভায় দুইমাস ধরে ফগার মেশিনদ্বারা মশার নিধোন চলছে। আমরা উপজেলা ও পৌরসভা যৌথ উদ্যোগে মশার নিধোন কার্যক্রম চলমান আছে। আমাদের ৭/৮ জন পরিচ্ছন্ন কর্মী মশা নিধনের কার্যক্রম করছে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি বাড়ি ঘরের আঙ্গিনায় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা জন্য অনুরোধ করছি যাতে এসিড মশা বিস্তার না ঘটতে করতে পারে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ