নিজস্ব প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে হারিছ চৌধুরী বাজার (আটকপালিয়া বাজার) এলাকায় এক ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীর কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে চর জুবিলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইমনের বিরুদ্ধে। ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ভয়ভীতি ও চাপের মুখে করজোড়ে অনুনয় বিনয় করেও শেষ পর্যন্ত তাকে কৌশলে ২৫ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করা হয়।

ব্যবসায়ী জানান, গতকাল তিনি দোকানে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। এ সময় ছাত্রদল নেতা ইমনের নেতৃত্বে কয়েকজন তার দোকানে এসে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি জানতে পেরে দোকানঘরের মালিক ও উপজেলা বিএনপি হেলাল উদ্দিন ঘটনাস্থলে এসে তাদের শাসিয়ে যান।
অভিযোগ রয়েছে, ওই বিএনপি নেতা চলে যাওয়ার পর ইমন ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন আবারও দোকানে এসে চাঁদার জন্য চাপ দেন। টাকা না দিলে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না এবং প্রশাসনের মাধ্যমে হয়রানি করা হবে বলেও ভয় দেখানোর অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী।
পরে তাকে দোকানের সিসিটিভির আড়ালে ডেকে নিয়ে প্রথমে টাকা দিতে চাপ দেওয়া হয়। ব্যবসায়ী করজোড়ে অনুনয় বিনয় করে অল্প টাকা দেওয়ার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত প্রথমে ২০ হাজার টাকা দেন। পরে ক্যাশে টাকা না থাকায় পাশের দোকান থেকে আরও ৫ হাজার টাকা এনে দেন। এভাবে মোট ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ তার।
ঘটনার পুরো বিষয়টি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীর। এতে অভিযুক্তদের দোকানে প্রবেশ, টাকা দাবি, ব্যবসায়ীর অনুনয় বিনয়, ক্যাশ থেকে টাকা বের করে দেওয়া এবং পরে পাশের দোকান থেকে টাকা সংগ্রহের দৃশ্যও রয়েছে বলে জানান তিনি।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার জন্য ব্যবসায়ীকে চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরে বিষয়টি ছাত্রদলের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের নজরে এলে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে জানান ব্যবসায়ী।
এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘটনার অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আরিফ বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। এ ধরনের অন্যায় কাজকে আমরা প্রশ্রয় দেব না। বিষয়টি প্রাথমিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে একটি পক্ষ বিষয়টি নিয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে হারিছ চৌধুরী বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। ব্যবসায়ী বলেন, আমি এখানে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে ব্যবসা করছি। এ পর্যন্ত কারও সঙ্গে আমার কোনো ধরনের ঝামেলা হয়নি। হঠাৎ করে এভাবে চাঁদা দাবি করায় আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা ইমনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :