আরজু আক্তার, হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নেতারা বলেন, গত ২ সেপ্টেম্বর হাতিয়া সুপার মার্কেটে ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অথচ মার্কেটে কোনো ধরনের চাঁদা দাবি, ভাঙচুর কিংবা হুমকি-ধামকির ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি হাছিব মো. মঈন উদ্দিন এবং সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হায়দার চৌধুরী সাজ্জাদের সঙ্গে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে তাদের সমর্থকদের সঙ্গে হাতিয়া সুপার মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান ও কমিটির সদস্য জাফরের মধ্যে আকস্মিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হাতিয়া পৌরসভা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রফেসর মোকাররম বিল্যাহ শাহাদাত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বোঝানোর একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কিছুটা উচ্চবাক্য বিনিময় হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের দাবি, প্রফেসর মোকাররম বিল্যাহ শাহাদাত তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর রূপ নিতে পারত। তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার অংশবিশেষের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা কাটছাঁট ও খণ্ডিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘পরিবর্তনের হাতিয়া গড়তে চাই’, ‘আকরাম হোসেন’ ও ‘জনতার কণ্ঠস্বর’ নামের কয়েকটি ফেসবুক আইডি থেকে হাতিয়া পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মোকাররম বিল্যাহ শাহাদাতের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী দল সুপার মার্কেটে চাঁদা দাবি করেছে, ভাঙচুর চালিয়েছে এবং মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানকে হুমকি দিয়েছে—এমন অভিযোগ প্রচার করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে দাবি করেছে হাতিয়া সুপার মার্কেট মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতি। এ ঘটনায় প্রফেসর মোকাররম বিল্যাহ শাহাদাতের সঙ্গে অপ্রীতিকর আচরণের জন্য হাতিয়া সুপার মার্কেট মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়। একই সঙ্গে হাছিব মো. মঈন উদ্দিন ও আমিরুল হায়দার চৌধুরী সাজ্জাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের জন্যও ক্ষমা চান সমিতির নেতারা।
এ ছাড়া ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে তার জন্যও আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে সমিতির পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, ভবিষ্যতে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে হাতিয়া সুপার মার্কেট মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে হাতিয়া সুপার মার্কেট কমিটির সভাপতি আমজাদ সাফদার, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :