আরজু আক্তার, হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় মেঘনা নদীর জাগলার চরে বন বিভাগের জমি দখল, সরকারি জমি বিক্রির চেষ্টা, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হাতিয়ার সুখচর সংলগ্ন জাগলার চরের ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট এলাকায় একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে অবস্থান করে সরকারি জমি দখলের চেষ্টা করছে। অভিযোগ রয়েছে, চক্রটির সদস্যরা ভূমিহীন ও অসহায় মানুষকে সরকারি জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ‘দাগ বিক্রির’ নামে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।
এদিকে সরকারি বনভূমি ও নতুন জেগে ওঠা চর রক্ষায় বন বিভাগের কর্মকর্তারা অবৈধ দখলদারদের সরাতে গেলে তাদের কাজে বাধা, হামলার চেষ্টা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বন বিভাগের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় বন বিভাগের অভিযোগের ভিত্তিতে ১৮ সেপ্টেম্বর হাতিয়া থানায় মামলা করা হয়। মামলায় বন আইন, ১৯২৭; ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সুখচর ইউনিয়নের উত্তর শূল্যকিয়া এলাকার এনায়েত হোসেন (৫৬), ওরফে এনায়েত খলিফা এবং চরকিং ইউনিয়নের রুবেল (৩০)। গ্রেপ্তারের পর তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, “মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত কার্যক্রম চলছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা জাগলার চরের নতুন ভূমিকে ঘিরে একটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সরকারি জমি দখল, অবৈধভাবে জমি বিক্রি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগগুলো সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সরকারি বনভূমি ও চরাঞ্চলের ভূমি রক্ষায় প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার করারও দাবি উঠেছে।
আপনার মতামত লিখুন :