মো. রেদওয়ান হোসেন, সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চর আমান উল্লাহ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বগার বাজার এলাকায় অসহায় দরিদ্র ছকিনা বানুর পৈতৃক সম্পত্তির সীমানার গাছপালা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী মো. ইউসুফের ছেলে ইব্রাহিম ও ইউসুফের স্ত্রীর বিরুদ্ধে।
ছকিনা বেগমের অভিযোগ, আজ সকাল ৭টার দিকে তিনি বাড়িতে একা থাকা অবস্থায় ইব্রাহিম ও ইউসুফের স্ত্রী বড় রামদা নিয়ে তার বাড়ির পশ্চিম পাশের সীমানায় থাকা গাছপালা কাটতে শুরু করেন। বাধা দিতে গেলে তাকে রামদা দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্থানীয়দের ডাকতে গেলে তারা দ্রুততার সঙ্গে উত্তর থেকে দক্ষিণ সীমানা পর্যন্ত প্রায় সব গাছপালা কেটে চলে যান।

অভিযোগ অনুযায়ী, কেটে ফেলা গাছের মধ্যে কাঠগাছ, বিভিন্ন ফলজ গাছ ও সবজি গাছও ছিল। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় প্রায় ৫০টিরও বেশি নানা প্রজাতির গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এমনকি বাড়ির একটি গরুর ঘরও ভাঙচুর করা হয়েছে এবং এতে একটি গরু আহত হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
ছকিনা বেগম বলেন, তার বড় কোনো পুত্রসন্তান নেই। ওই সময় বাড়ির পাশের আত্মীয়স্বজনরাও কেউ ছিলেন না। তিনি একা থাকায় তাকে ভয় দেখিয়ে বাধা সরিয়ে দিয়ে পুরো সীমানার গাছপালা কেটে ফেলা হয়েছে। তার দাবি, সম্পূর্ণ জায়গাটি তার পৈতৃক সম্পত্তি এবং দীর্ঘদিন ধরে ওই জায়গা তার দখলে রয়েছে। জায়গাটি দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে গাছপালা কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, ইউসুফের বাড়ি অন্যদিকে হলেও কয়েক বছর আগে ছকিনা বেগমের বাড়ির পশ্চিমে জায়গা ক্রয় করেছেন। তবে এ বছর থেকে সেখানে বসবাসের পরিকল্পনা থাকায় তাদের পূর্ব দিকের অংশকে আরো সম্প্রসারণের জন্য দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে ইউসুফের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন এবং বিষয়টি জানতেন না। পরে ঘটনা জানতে পেরে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, এভাবে গাছপালা কেটে ফেলা ঠিক হয়নি। এ ব্যাপারে তার ছেলে ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী কথা বলেননি। তবে তাদের স্বজনরাও এমন ধরনের কাজের জন্য নিন্দা জানিয়েছেন।
ছকিনা বেগমের পরিবারের দাবি, তার পৈতৃক সম্পত্তির সীমানা থেকে গাছপালা কেটে ফেলা ও গরুর ঘর ভাঙচুরের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। স্থানীয়রাও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়সংগত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :