আবুল হোসেন, রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি
গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় মো. ইয়াকুব পাল (৩০) নামের এক ব্যাক্তিকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সে উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের শাহাদত মেম্বার পাড়ার মৃত আ. করিম পালের ছেলে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাতে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া পূর্ব পাড়ায়। এ ঘটনায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সাধারন সম্পাদক আইয়ুব খান ও তার দুই ছেলেসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছে আহতের ভাই মো. শহিদ পাল। তবে অভিযুক্তদের দাবি, তাদের খাবার হোটেলে চাঁদা দাবি করায় এ ঘটনা ঘটেছে।

মামলার বাদি ও রাজবাড়ী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহবায়ক মো. শহিদ পাল জানান, তার ভাই মো. ইয়াকুব পাল সম্প্রতি দৌলতদিয়া পূর্ব পাড়ায় (যৌনপল্লী) একটি বাড়ি ক্রয় করেছে। এরপর থেকে স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু দুর্বৃত্ত তার ভায়ের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার ঈদের দিন রাতে তার ভাই ইয়াকুব পাল দৌলতদিয়া পূর্বপাড়ার একটি খাবারের দোকানে খাবার খাচ্ছিল। এসময় মামলার আসামীরা তার ভাইয়ের কাছে ফের চাঁদা দাবি করে। কিন্তু তার ভাই চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে এলোপাথারী কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এসময় স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তার ভাইকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার ভাইকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানন্তর করে। সেখানেও তার ভাইয়ের অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা ঢাকায় রেফার করে। বর্তমানের তার ভাই ঢাকার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সাধারন সম্পাদক মো. আইয়ুব খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার জামাতা মো. হুমাই শেখ সম্প্রতি দৌলতদিয়া পূর্বপাড়ায় (যৌনপল্লী) একটি খাবার হোটেল চালু করেছে। সেখানে শহিদ পালের ভাইসহ আরো ২/৩ জন ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে তাকে চড়-থাপ্পর মারে। বিষয়টি জেনে আমার ছেলেরা দ্রুত সেখানে গিয়ে শহিদ পালের ভাইকে মারপিট করে। এরপর আবার শহিদ পালের লোকজন এসে হোটেলে ভাঙচুর করে এবং পরে আমার ছেলেকে লক্ষ্য করে ৩ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় আমার ছেলে প্রাণে বেঁচে যায়।’ এ ঘটনায় তিনিও গোয়ালন্দ ঘাট থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। তবে জাতীয় পরিচয় পত্রের জটিলতায় এখনো মামলা রেকর্ড হয়নি। অভিযোগের ত্রুটি সংশোধন করে মামলা করা হবে বলে তিনি জানান।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ওই ঘটনায় আহত ব্যাক্তির ভাই চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেছে। এছাড়া ওই মামলার বিবাদি পক্ষ থেকেও একটি অভিযোগ নিয়ে এসেছিল। তাদের অভিযোগটি ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় আপাতত ফেরত দেয়া হয়েছে। তবে কোন গুলির ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি শোনেননি বলে তিনি জানান।
আপনার মতামত লিখুন :