সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্থবিরতা ও শিক্ষকদের পদোন্নতি বঞ্চনা
গ্লোবাল সংবাদ
- প্রকাশিত : ০৩ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষিত জাতি গঠনে, উচ্চ শিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলাসহ শিক্ষার মানোন্নয়নে নিরলসভাবে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। নতুন জাতীয়করণকৃত মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বর্তমানে বাংলাদেশে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭০২। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তিন শতাধিক বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমান সরকারের আমলেও অনুরূপ জাতীয়করণ লক্ষ করা যাচ্ছে। শুধু বেসরকারি বিদ্যালয়কে সরকারি করলেই শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত হবে কি না তা জোরালোভাবে বিশ্লেণের দাবি রাখে।
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মেধা,শ্রম, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব মাধ্যমিক শিক্ষার ভিত্তিকে সুদৃঢ় রেখেছে। রাষ্ট্র পরিচালনা ও নেতৃত্বে দক্ষ মানব সম্পদ গঠনে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য যে এই শিক্ষক সমাজ দীর্ঘদিন ধরে তাদের নায্য দাবি ও অধিকার থেকে বঞ্চিত। সরকারি প্রজ্ঞাপন বা বিধি অনুযায়ী আট বছর সন্তোষজনক চাকুরিকাল সম্পন্ন করার পর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ‘সিনিয়র শিক্ষক’(প্রথম শ্রেণির গেজেটেড পদমর্যাদায়)পদে পদোন্নতি পাবার কথা।
কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ২০১১ ব্যাচের সহকারী শিক্ষকদের চাকুরিকাল ১৫ বছর অতিক্রম হয়ে ১৬ বছরে পদার্পন করলেও তাঁরা এখনও সহকারী শিক্ষকই রয়ে গেছেন। উল্লেখ্য ২০১০ ব্যাচের সহকারী শিক্ষকদের মধ্য হতে কিছু শিক্ষককে ‘সিনিয়র শিক্ষক’ পদে পদোন্নতি দেওয়া হলেও একই ব্যাচের কিছু সহকারী শিক্ষক ১৭ বছর ধরে একই পদে চাকুরি করে যাচ্ছেন কোন সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড ছাড়াই। বড়ই পরিতাপের বিষয় যে ২০১১ ব্যাচের সহকারী শিক্ষকরাও এপর্যন্ত কোন সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেডও পাননি।বর্তমানে দেশে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘সিনিয়র শিক্ষক’ পদের প্রায় ২ হাজার ৬০০ টি পদ শূণ্য রয়েছে। এতোগুলো পদ খালি থাকার পরেও যোগ্য শিক্ষকদের পদোন্নতি বঞ্চনার এমন পীড়াদায়ক ঘটনা সহকারী শিক্ষকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করছে।
দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনা পেশাগত উদ্দীপনা কমিয়ে বৃদ্ধি করছে হতাশা ও অনিশ্চয়তা। হতাশ শিক্ষক দিয়ে কখনোই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি ও পেশাগত অগ্রগতি না হলে সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হবে।
দেশে বিদ্যমান সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘প্রধান শিক্ষক’ , ‘সহকারী প্রধান শিক্ষক’ পদের প্রায় ৬০% পদ শূণ্য রয়েছে। সেগুলো শূণ্যপদে যোগ্য শিক্ষকদেরকে পদোন্নতি না দিয়ে ‘চলতি দায়িত্ব’ ও ‘ভারপ্রাপ্ত’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার ফলে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্থবিরতা লক্ষ করা যাচ্ছে এবং শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে বার্ষিক পরিক্ষা চলাকালীন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাঁদের পদোন্নতিসহ অন্যান্য নায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দেশব্যাপী কর্মবিরতি কর্মসূুচী পালন শুরু করেও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে শিক্ষকরা তাঁদের কর্মসূুচী স্থগিত করেন এবং বার্ষিক পরিক্ষা যথাসময়ে সম্পন্ন করেন।
নায্য দাবি আদায়ে শিক্ষকদের আন্দোলন করতে হবে কেন? সরকারের উচিত অনতিবিলম্বে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রাপ্য পদোন্নতি প্রদান ও অন্যান্য নায্য দাবি আদায়ের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করা। এব্যাপারে আমরা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ,শিক্ষা মন্ত্রী ও মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি।
লেখক: মোহম্মদ আব্দুস ছালাম
সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি)
বনোয়ারী লাল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সিরাজগঞ্জ
আপনার মতামত লিখুন :