অপপ্রচার ও পাসপোর্ট জটিলতা নিরসনে রিয়াদে সাংবাদিকদের সাথে বৈঠক


FavIcon
গ্লোবাল সংবাদ
  • প্রকাশিত : ৩১ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

 মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, রিয়াদ (সৌদি আরব) প্রতিনিধি।। 


সেবা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও পাসপোর্ট জটিলতা নিরসনে সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস অনুমোদিত বাথাস্থ প্রবাসী সেবা কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রবাসী সাংবাদিকদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


‎বুধবার ​ (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত দেড়টায় ১ প্রবাসী সেবা কেন্দ্রের অডিটোরিয়াম হলরুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

‎​প্রবাসী সেবা কেন্দ্রের মার্কেটিং ডিরেক্টর রোটারিয়ান সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়ের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন বাথাস্থ প্রবাসী সেবা কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবু সায়েদ তারেক।

‎অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী মার্কেটিং ডিরেক্টর শওকত আলী রিপন এবং সহকারী অফিসার আব্দুল্লাহ ফুয়াদসহ রিয়াদে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ।

‎মতবিনিময় সভায় প্রবাসীদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতা, ভোটার আইডি কার্ড এবং জন্মনিবন্ধন সংশোধনসহ প্রবাসীদের বিভিন্ন সেবা প্রাপ্তির বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে উঠে আসে।

‎সেবা কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সায়েদ তারেক বলেন, ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রবাসী সেবা কেন্দ্র সম্পর্কে কিছু তথ্যহীন ও ভিত্তিহীন সমালোচনা করা হচ্ছে। তাই রিয়াদে অবস্থানরত প্রবাসী সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য ও সঠিক তথ্য দেশ ও প্রবাসবাসীর সামনে তুলে ধরার জন্যই আজকের এই আয়োজন।

‎​পাসপোর্ট ও জনবল সংকট প্রসঙ্গে বক্তব্যঃ কর্তৃপক্ষ জানান, এমআরপি (MRP) পাসপোর্ট থেকে ই-পাসপোর্টে রূপান্তরের এই সময়ে বাংলাদেশি সার্ভার ও জনবল সংকটসহ নানা ধরনের জটিলতা থাকা সত্ত্বেও তারা প্রবাসীদের সেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছেন।

‎​বিশেষ করে পাসপোর্ট নবায়নের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন ও ভোটার আইডি কার্ডের তথ্যে অমিল থাকা, আবেদন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ডেলিভারিতে বিলম্ব হওয়ার কারণে অনেক সময় সেবা কেন্দ্র ও দূতাবাসকে ভুলভাবে অভিযুক্ত করা হয়। অথচ প্রবাসে বসে নাম বা তথ্য সংশোধনের সুযোগ থাকলেও এর চূড়ান্ত সমাধান সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় ইউনিয়ন ও উপজেলা নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত।

‎​পাসপোর্ট নবায়নে অনলাইন আবেদন, নবায়ন এবং ডেলিভারি ফিসহ পেশাভেদে কম-বেশি খরচের বিষয়টি স্পষ্ট করে কর্তৃপক্ষ জানান যে, বাংলাদেশ সরকার ও দূতাবাস কর্তৃক নির্ধারিত ফি-র বেশি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ​অনলাইন আবেদন ফি: ২০ রিয়াল, ​প্রদেশ বা গন্তব্যে ডেলিভারি ফি: ২৫ রিয়াল,​৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের চার্জ: ১৬৫ রিয়াল,​১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের চার্জ: ২১০ রিয়াল (পেশার ভিন্নতা ও ইমার্জেন্সি ডেলিভারির ক্ষেত্রে ফি কিছুটা কম-বেশি হতে পারে)

‎​সেবা কেন্দ্রের কোনো কর্মী যদি অর্থ আত্মসাৎ কিংবা কোনো অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ সাপেক্ষে তাৎক্ষণিক চাকরিচ্যুতির মতো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন কতৃপক্ষ।


‎​ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণের বিষয়ে জানানো হয়, পূর্বে নির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও বর্তমানে মান্যবর রাষ্ট্রদূত দেলোয়ার হোসেনের দিকনির্দেশনায় মূল সেবা কেন্দ্রগুলোর কাছাকাছি স্থানে ফিঙ্গারপ্রিন্ট কার্যক্রম উন্মুক্ত করা হয়েছে, যাতে প্রবাসীরা সহজে সেবা গ্রহণ করতে পারেন। তবে সেবাগ্রহীতাদের দীর্ঘসূত্রিতা ও বিড়ম্বনা এড়াতে সেবা কেন্দ্রের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করে শিডিউল নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

‎​১৫ লাখেরও বেশি প্রবাসীকে সেবা প্রদান প্রসঙ্গে, কর্তৃপক্ষ আরও জানান, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সাংবাদিকদের সহযোগিতায় ১৫ লাখেরও বেশি প্রবাসীকে সেবা প্রদান সম্পন্ন করা হয়েছে। সাংবাদিকদের আন্তরিক সহযোগিতা থাকলে সেবাখাত আরও গতিশীল হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

‎​সভায় কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয় যে, বাধ্যতামূলকভাবে প্রবাসীকে নিজ দায়িত্বে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে পাসপোর্ট গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া দূতাবাস অনুমোদিত এই সেবা কেন্দ্রের বাইরে অন্য কোথাও কোনো প্রকার ভুলত্রুটি বা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ঘটলে তার দায়ভার সেবা কেন্দ্র নেবে না বলেও স্পষ্ট করে জানানো হয়।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ