রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি।।
বঙ্গোপসাগরের হিমেল হাওয়া আর মেঘনার উত্তাল যৌবন—প্রকৃতির এই দুইয়ের অনন্য মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার মেঘনা বীচে। রূপসী বাংলার অপরূপ সৌন্দর্যের এই লীলাভূমি এখন ভ্রমণপিপাসুদের নতুন আকর্ষণ। মেঘনার মোহনায় জেগে ওঠা নতুন নতুন চর আর বিশাল জলরাশির সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন এখানে ভিড় করছেন দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা।
উপজেলা পরিষদের সামনের মেঘনা বীচ, আসলপাড়া লঞ্চঘাট পল্টুন এলাকা এবং হাসপাতাল সংলগ্ন নদীতীর এখন দর্শনার্থীদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। মেঘনার বুকে জেগে ওঠা বিভিন্ন দ্বীপচরে পরিবার-পরিজন বা বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে অনেকেই ছুটে আসছেন।
পর্যটকদের আনন্দময় ভ্রমণের জন্য এখানে রয়েছে স্পিডবোট ও ফাইবার বোটে নদী ভ্রমণের সুযোগ। এছাড়া মেঘনার মাঝের চরগুলোতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নিয়মিত বনভোজন ও শিক্ষা সফরের আয়োজন করা হচ্ছে।
মেঘনা পাড়ের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করলেও, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে অনেক সময় বিড়ম্বনায় পড়তে হয় ভ্রমণকারীদের। নিয়মিত আসা দর্শনার্থীদের মতে, এই পর্যটন কেন্দ্রটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই।
এ বিষয়ে স্থানীয় পর্যটকরা জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশের টহল বাড়ানো প্রয়োজন। একই সাথে দীর্ঘসময় অবস্থানকারী পর্যটকদের জন্য গণশৌচাগার, ওয়াশ ব্লক, চেঞ্জিং রুম এবং মানসম্মত হোটেল-মোটেল স্থাপন করা জরুরি। প্রয়োজনীয় এই সুবিধাগুলো নিশ্চিত করা গেলে আলেকজান্ডার মেঘনা বীচ ও এর সংলগ্ন দ্বীপচরগুলো খুব শীঘ্রই দেশের অন্যতম সেরা পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই এলাকাটির যথাযথ পরিচর্যা ও পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে মেঘনা পাড়ের পর্যটন শিল্প দেশের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
আপনার মতামত লিখুন :