নিজস্ব প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা :
ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং নিজেকে মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুস সালাম। তিনি বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। চিকিৎসার পাশাপাশি আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন, সাতক্ষীরা জেলা শাখার সার্বিক সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. মো. আবদুর রহমান, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জয়ন্ত সরকার, অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি আ ম আখতারুজ্জামান মুকুল ও সিএম নাজমুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান রাসেল।
সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং মশার কামড় থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা। বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্র, বালতিসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। সপ্তাহে অন্তত এক দিন বাড়ি ও আশপাশ ভালোভাবে পরিষ্কার করার পাশাপাশি খোলা পাত্র ঢেকে রাখতে হবে। স্কুল-কলেজ ও হাটবাজারসহ জনসমাগমস্থলে নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা ফেলারও আহ্বান জানান তিনি।
মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকতে দিনে ও রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার, শরীর ঢেকে রাখা পোশাক পরা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মশা নিরোধক ক্রিম বা স্প্রে ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জ্বর, গায়ে ব্যথা বা শরীরে র্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় সাতক্ষীরায় ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলক কম। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুরু থেকেই জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
আলোচনা সভা শেষে সদর হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। পরে হাসপাতালের আশপাশের জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও ড্রেন পরিষ্কার করা হয়। কর্মসূচিতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধি এবং সদর হাসপাতালের নার্সরা অংশ নেন।
আপনার মতামত লিখুন :