সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর সুবর্ণচরের পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নে ব্যক্তি মালিকানাধীন ও ভোগদখলীয় প্রজেক্ট দখল করে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনেও বাধা ও হামলার চেষ্টা করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার চর মজিদ গ্রামের চান্দু মার্কেট এলাকায় খামারী শের আলীর মৎস্য প্রজেক্টে মানববন্ধনের আয়োজন করা হলে তা পন্ড করে দেওয়া হয়েছে। পরে স্থানীয় জোবায়ের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সমাবেশ করেন ভুক্তভোগীরা।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- প্রজেক্টের মালিক মো. আনোয়ার হোসেন হেলাল, প্রজেক্টের লিজ গ্রহিতা খামারী শের আলী, স্থানীয় বাসিন্দা আইযুব আলী কাজল, কামরুল ইসলাম বাবু, সাইফুল ইসলাম সোহাগ, আবুল কালাম প্রমূখ।
প্রজেক্টের মালিক মো. আনোয়ার হোসেন হেলাল বলেন ১৯৯৫ সাল থেকে চান্দু মার্কেট সংলগ্ন ২ একর ৫০ শতাংশের পুকুর ভোগদখলে থেকে মৎস্য চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন তিনি। ২০০৫ সালে ০১ একর ২৫ শতাংশ করে দুটি খতিয়ানে ২ একর ৫০ শতাংশ জমি সরকার থেকে বন্দোবস্ত নেন তিনি। এরপর থেকে সরকারকে ভূমির খাজনাও পরিশোধ করে আসছেন তিনি। ২০২৪ সালের ২৮ এপ্রিল প্রজেক্টটি ৫ বছরের জন্য স্থানীয় মৎস্য খামারী শের আলীর কাছে লিজ দিলে তিনিও শান্তিপূর্ণভাবে আমার প্রজেক্টে মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।
প্রজেক্টের লিজ গ্রহণকারী শের আলী বলেন, বিভিন্ন প্রজেক্ট লিজ নিয়ে মৎস্য চাষ করে তার জীবিকা নির্বাহ হয়। তার প্রজেক্টে মাছ চাষ, আহরণ ও বিক্রি করে শতাধিক ব্যক্তিও জীবিকা নির্বাহ করেন। চান্দু মার্কেট সংলগ্ন আনোয়ার হোসেন হেলালের প্রজেক্ট লিজ নেওয়ার পর গত দুই বছর তিনি সেখানে শান্তিপূর্নভাবে মাছ চাষ করে আসছেন। সাম্প্রতিক স্থানীয় চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী নোমান, রুবেল, হেদায়েত, বায়োজিদ, মামুন ও আইয়ুব তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি সন্ত্রাসীদের চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় উল্লেখিত চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীরা গত ১৯ জুন দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক প্রজেক্ট দখল করে নেয়।
শের আলী বলেন- এবিষয়ে তিনি চরজব্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও থানা-পুলিশ আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেননি। এরই মধ্যে উল্লেখিত সন্ত্রাসীরা তার প্রজেক্ট থেকে দফায় দফায় জাল টেনে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন আইনি সহযোগিতা না পাওয়ায় শুক্রবার বিকালে চান্দু মার্কেট সংলগ্ন ওই প্রজেক্ট পাড়ে ঘটনায় জড়িত চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, প্রজেক্ট উদ্ধার এবং ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করেন তিনি। এসময় স্থানীয় কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে উল্লেখিত সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের সামনে তাদের ওপর হামলা চেষ্টা করেন এবং মানববন্ধন পন্ড করে দেয়া হয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে স্থানীয় জোবায়ের বাজারে তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ সমাবেশ করেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী। প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে দ্রুত জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, প্রজেক্ট উদ্ধার এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
পুলিশের অসহযোগিতার বিষয়টি অস্বীকার করে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন- অভিযোগ পেয়ে তদন্তের জন্য এস.আই আশ্রাফুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ছুটিতে থাকার কারণে তদন্তে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। এই ঘটনায় সরেজমিন তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :