হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার, বিদ্যুৎস্পৃষ্টের দোহাই! গোয়ালন্দে ৪ লাখ টাকায় রফাদফার চেষ্টা


FavIcon
গ্লোবাল সংবাদ
  • প্রকাশিত : ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

আবুল হোসেন, রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি


রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নবীরন বেগম (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, ধানক্ষেতে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।


বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার দৌলতদিয়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আইনদ্দীন প্রামাণিক পাড়ায় রফিকুল মৃধার পুকুরপাড়ের আখক্ষেতের পাশে পুকুরপাড় কলা গাছের নিচে থেকে হাত-পা বাধা অবস্থায় নবীরন বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি দুলাল বেপারী পাড়ার আব্দুর রহিম শেখের স্ত্রী।

এদিকে নবীরন বেগমের মৃত্যু নিয়ে তার ভাই আবজাল শেখ ও এলাকাবাসীরা জানান আমার বোন মারা গেছে, এলাকার সবার সম্মিলিত চেষ্টার সিদ্ধান্তে ৪ লাখ টাকায় বিষয়টি সমাধান হয়েছে। আমরাও তা মেনে নিয়েছি। আমরা চাই না আমার বোনের লাশ কাটাছেঁড়া হোক।’


বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, দৌলতদিয়া মণ্ডল হ্যাচারীজ সংলগ্ন জামে মসজিদে নবীরন বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হেফাজতে নেয়।


পরে ঘটনাস্থল দৌলতদিয়ার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আইনদ্দীন প্রামাণিক পাড়ার রফিকুল মৃধার পুকুরপাড় ও আখক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরপাড় ও পাশের আখক্ষেত কারেন্টের তার দিয়ে ঘেরা। পুকুরপাড়ের পাশেও মরদেহ পুঁতে রাখার জন্য গর্ত করা দেখা যায়।


দৌলতদিয়া ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রফিকুল মৃধার বাড়ির পাশের কলা গাছের নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু বলে ঘোষণা করেন। উদ্ধারের সময় নবীরন বেগমের পায়ে কাপড় প্যাঁচানো ছিল এবং শরীরের অর্ধেক মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।


একই সঙ্গে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য পরিবারের সঙ্গে ৪ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নিহতের প্রতিবেশী এক নারী বলেন, রাত সাড়ে নয় টায় সময় স্থানীয়রা কলা গাছের নিচে থেকে হাত পা বাধা অবস্থায় নবীরন বেগম কে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।


গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল পরিবারের পক্ষ থেকে জানতে পারি, স্ট্রোকজনিত কারণে নবীরন বেগমের মৃত্যু হয়েছে। যার কারণে গতকাল মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। আজ বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারি, তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত হয়েছেন। কাজেই আজ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে নবীরন বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ