সিরাজগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে শারীরিক নির্যাতন, অবশেষে তালাক।


FavIcon
গ্লোবাল সংবাদ
  • প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

এম আরিফুল ইসলাম, সলঙ্গা (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:


সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভট্টমাঝুরিয়া গ্রামে যৌতুকের দাবি পূরণ করতে না পারায় এক গৃহবধূকে নির্মম শারীরিক নির্যাতনের পর তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মৃত জহুরুল ইসলামের ছেলে মোঃ আরিফুল ইসলাম (৩০), মোঃ মনিরুল ইসলাম (২৫) ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভট্টমাঝুরিয়া গ্রামের উক্ত দম্পতির মধ্যে দীর্ঘ প্রায় ৩বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে পরিবারের সম্মতি ও অসামাজিক কলহ এড়াতে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে পারিবারিক ভাবে ৩লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে চলতি বছরের মে মাসে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের শুরুতে সংসার সুখের হলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই স্বামী আরিফুল ইসলাম, তার ছোট ভাই মনিরুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা গৃহবধূর নিকট মোটা অংকের যৌতুক দাবি করতে শুরু করে।


উল্লাপাড়া উপজেলার বড় পাংঙ্গাসী ইউনিয়নের চন্ডগাতী গ্রামের মোঃ মুঞ্জিল হক'র মেয়ে মোছাঃ মুসলিমা খাতুন (২৮) নামের নির্যাতিতা গৃহবধূর জানায়, যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন সময় তার ওপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালানো হতো। একাধিকবার স্থানীয়ভাবে শালিস-বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মিটমাটের চেষ্টা করা হলেও যৌতুকলোভী স্বামী তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।


গৃহবধূ আরও জানান, তার স্বামী মোঃ আরিফুল ইসলাম চাকরি বাণিজ্য নিয়োগের সাথে সরাসরি জড়িত। তিনি ডিভাইসের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকার চুক্তিতে চাকরি বাণিজ্য করে বেড়ান।


সর্বশেষ গত ২৮শে আগস্ট-২০২৬ইং তারিখে গৃহবধু তার স্বামীর বাসায় আসলে, তার দেবর মোঃ মনিরুল ইসলাম সহ তার পরিবার লোহার রড দিয়ে মারপিট করে, বুকে লাথি মারে এমনকি কুকুরের সামনে ফেলে দিলে বধুকে কুকুর কামড়ায়। যৌতুকের টাকার জন্য গৃহবধূকে বেদম মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।


পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় ৯৯৯ এ ফোন করলে সলঙ্গা থানা প্রশাসন এসে প্যানেল চেয়ারম্যান নওজেশ আলী নায়েবের জিম্বায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পাশের এক বাড়িতে রাত্রী যাপন করার ব্যবস্থা করে দেন পরবর্তীতে অদ্য ২৯শে আগস্ট ভুক্তভোগীর অবস্থা খারাপ হলে, পরিবারের সদস্যরা এসে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নওজেশ আলী নায়েব এর মাধ্যমে গৃহবধুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।


গৃহবধূর ভাই বলেন, আমার বোনের অবস্থার কথা শুনে সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম আলী নিকট অভিযোগ দায়ের করতে গেলে, তিনি অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি প্রদান করে, কোর্টে মামলা দায়ের করা কথা বলেন।


এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ আসলাম আলীর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বলেছি আগে চিকিৎসা দিন, তারপর অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। অভিযোগ নিচ্ছি না, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি আরও বলেন এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। গৃহবধুর পরিবার সলঙ্গা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ